সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চলের জোংড়া টহল ফাঁড়ির আওতাধীন সিমানা খাল সংলগ্ন বনাঞ্চলে নিয়মিত ফুট প্যাট্রোল ও লাইন সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করার সময় বন বিভাগের টহল দল একটি জীবিত পুরুষ চিত্রা হরিণকে মালা ফাঁদে আটকা অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে বন কর্মকর্তারা হরিণটিকে সফলভাবে বনে পুনরায় অবমুক্ত করেন।

জোংড়া টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় টহল কার্যক্রম প্রতিনিয়ত পরিচালিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় অভিযানের সময় চোরা শিকারিদের পেতে রাখা মালা ফাঁদে আটকে থাকা হরিণটি উদ্ধার করা হয়। এসময় ৪টি ছিটকে ফাঁদ এবং ১০টি ডোয়া মালা ফাঁদও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১০টি সিঙ্গেল মালা ফাঁদ ও ৪টি সিটকা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকালে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে প্রহরীরা হরিণটিকে ফাঁদে আটকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দেন।

বন কর্মকর্তাদের ভাষায়, বর্তমানে শিকারিরা প্রধানত দুই ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করছে—মালা ফাঁদ ও সিটকা ফাঁদ। এর মধ্যে মালা ফাঁদ সাধারণত চিকন দড়ি, জিআই তার বা গুণা দিয়ে তৈরি করা হয় এবং গাছের গোড়ার কাছাকাছি বৃত্তাকারে পাতা হয়। হরিণ দ্রুত দৌড়ে যাওয়ার সময় এর পা বা গলা ফাঁদে আটকে যায়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় শত শত এমন ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে; একদিনে প্রায় ৬০০টি ফাঁদ জব্দের ঘটনাও রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।

গত কয়েক মাসে পূর্ব সুন্দরবনের বিভিন্ন রেঞ্জে ধারাবাহিক অভিযানে ৮২, ৫৩ এবং ৬০০টির মতো হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি শিকারবিরোধী অভিযানে হরিণের মাংস, শিকারের সরঞ্জাম, ট্রলার ও নৌকা জব্দ এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বন কর্মকর্তারা জানান, হরিণ সুন্দরবনের বাঘসহ বৃহৎ শিকারিদের প্রধান খাদ্য হওয়ায় নির্বিচারে শিকার পুরো খাদ্যজাল ও ইকোসিস্টেমের ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। তাই নিয়মিত টহল, ফাঁদ অপসারণ এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে শিকার নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি। বন বিভাগ এ দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করছে, যাতে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা যায়।