শাহিনুর রহমান সুজন, চারঘাট (রাজশাহী) : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধসহ নানা সংকট চলছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা সেবা প্রত্যাশীরা প্রতিনিয়ত খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা, অন্যদিকে বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত গর্ভধারণের ঝুঁকি।
উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চারঘাটে রয়েছে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাঁচটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক। এসব কেন্দ্র থেকে নিয়মিত সেবা নেন উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার ৩০৫ জন দম্পতি। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে ২৩ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ একেবারে বন্ধ। একইসঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহেও চলছে চরম ঘাটতি। শলুয়া, নিমপাড়া ও ভায়ালক্ষীপুরসহ একাধিক ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, জনবল সংকটের পাশাপাশি ওষুধ না থাকায় রোগী সংখ্যা দিন দিন কমছে। আগে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৫০-৬০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসতেন, এখন সেখানে রোগীর সংখ্যা নেমে এসেছে ১০-১২ জনে। শলুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাসিম আহমেদ বলেন, “আমরা এখন শুধু পরামর্শ দিচ্ছি। ওষুধ না পেয়ে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। আগে প্রতিদিন অনেক রোগী আসতেন। কিন্তু এখন আসছেন হাতে গোনা কয়েকজন। ডিসেম্বরের পর থেকে আর কোনো ওষুধ পাইনি। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পাচ্ছি।” ভায়ালক্ষীপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মেহেরুন নেসা বলেন, “কেন্দ্র ঠিকমত খোলা থাকে না। খোলার সময়ও জ্বর-সর্দির মতো সাধারণ ওষুধও পাওয়া যায় না। কয়েক মাস ধরে কোনো ওষুধ দিচ্ছে না। শুধু প্রেসার মেপে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। আগে অন্তত কয়েকটা ওষুধ পেলেও সংসারে একটু সাশ্রয় হতো। দিনমজুর পরিবারে কয় টাকা আয় হয়, আপনারাই বলেন!” সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর চারঘাট উপজেলার সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা বলেন, “এভাবে দীর্ঘদিন ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী না থাকায় সাধারণ মানুষ স্থানীয় ফার্মেসিতে গিয়ে বেশি দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিও বাড়ছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই সংকট দ্রুত নিরসন না হলে গ্রামের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দ্রুত সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।