বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা : নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সরকারি লবণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

কাগজে-কলমে বিতরণ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বরাদ্দকৃত লবণ বুঝে পায়নি। আবার কেউ কেউ জানেই না তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে কি পরিমান লবণ বরাদ্দ রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে ‘লুট’ করা হয়েছে সরকারি বরাদ্দের লবন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, চাহিদা বা সক্ষমতা বিবেচনা না করে ইচ্ছেমতো বরাদ্দ বণ্টনেরও।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য চলতি বছর বাগাতিপাড়ায় ২৯ টন লবণ বরাদ্দ পায়। যা উপজেলার ৩০টি মাদরাসা ও এতিমখানার মাঝে বিতরণ দেখানো হয়েছে।

তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউএনও স্বাক্ষরিত মাস্টাররোলে বরাদ্দের পুরো লবণ উত্তোলন দেখানো হলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান তা বুঝে পায়নি। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বাক্ষর না করলেও বিতরণের মাস্টাররোলে তার স্বাক্ষর রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান চামড়া সংগ্রহ না করায় তাদের নামে বরাদ্দ হওয়া লবণ গ্রহণ করেননি। তবে নথিপত্রে স্বাক্ষর জাল করে তাদের বরাদ্দের লবণও বিতরণ দেখানো হয়েছে। বাস্তবে বরাদ্দের আংশিক বিতরণ হলেও নথিপত্রে বিতরণ দেখানো হয়েছে সম্পূর্ণ বরাদ্দ।

জামনগর পশ্চিমপাড়া ফাতেমাতুয যাহরা নুরুল কুরআন মহিলা মাদরাসার সহকারী শিক্ষক বিপ্লব উদ্দীন বলেন, আমাদের মাদরাসার জন্য ৯০০ কেজি অর্থাৎ ১৮ বস্তা লবণ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু আমি লবণ উত্তোলনের দিন উপজেলায় যাইনি এবং লবণ নিইনি। অথচ দেখছি মাস্টাররোলে আমার জাল স্বাক্ষর দিয়ে উত্তোলন দেখানো হয়েছে।