রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় বয়ে যাওয়া ভুলুয়া নদী খনন না করায় এ অঞ্চলের ছোট বড় অন্তত দশটি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। এ নিয়ে ভুক্তভোগী জনগণ অব্যাহতভাবে স্থানীয় এলাকায় হাটবাজার ও উপজেলা পরিষদের সামনে কয়েক দফা মানববন্ধন প্রতিবাদ সভা সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান পানিবদ্ধতার অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে নদী দখল করে ঘরবাড়ি দোকানঘর নির্মাণ, মাটি চোর চক্রের দ্বারা এলোমেলো ভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া এবং নদী বাঁধ দিয়ে বড় মোটা ভল্লি (পালা) সারি করে গেড়ে পানি আটকিয়ে রেখে বেহুন্দী জাল ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাছ শিকার করেন, এতে পানি চলাচলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এসব কাজে জন্য জনপ্রতিনিধি ও অসৎ নেতৃত্বকে দায়ী করছেন তারা। ছোট নদীগুলো ড্রেজিং (খনন) কাজ না হলে পলি জমে ভরাট হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয় ওই সভায় ভুলুয়া নদীর জলাবদ্ধতা সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের আস্বাস দেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ড়র উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মাঝে মধ্যে কিছু জাল গাছের ভল্লি অপসারণ করতে দেখা যায় এতে প্রকৃত অর্থে জলাবদ্ধতা নিরসন কোন কাজে আসেনি। রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোডেক কলোনী সংলগ্ন ভুলুয়া নদীর ব্রিজ এলাকা হতে আজাদ নগর ব্রিজ পর্যান্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশে নদী ভরাট হয়ে থাকায় পানি চলাচল করতে পারছে না অথচ তার পঞ্চিমে বিশাল এলাকার নদী গভীরতা অনেক বেশি তাই জমে থাকা পানি সামান্য বৃষ্টি হলেই চর পোড়াগাছা, চরআলগী, চর বাদাম কমলনগরের চর কাদিরা ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ ঘরবন্ধী হয় যায় এবং কয়েক লক্ষ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে রবিশস্য নষ্ট চাষাবাদ ব্যহত হয় তাতেই স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছ।
একসময় এই ভুলুয়া নদী ছিল অত্যান্ত খরস্রোতা নদী এতটাই হরেরডাক (ঢেউ) ছিল মানুষ নদী পারাপার করতে যেয়ে গরু ছাগল পর্যান্ত মানত করা হতো। সেই নদী এখন পলি ভরাটে সংকুচিত হয়ে পড়ে অনেকটা খালে পরিনত হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) নাজিম উদ্দিন দালান জানান, গত বছরের আগস্ট মাসের শেষের দিকে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও ব্যপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানিতে এ অঞ্চল কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ওই সময় কয়েক হাজার মানুষ জনকে উদ্ধার করে আশ্রয়ন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে অসহায় মানুষগুলো প্রায় দুই মাস যাবৎ মতো থাকতে হয়। এসময় সরকারি বেসরকারি ব্যাপক ত্রাণ বিতরণ করা হয়। জনগণের দুর্ভোগ লাগবে ওই সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সরকারের নিকট ভুলুয়া নদী খনন করতে নানান কায়দায় ব্যাপক দাবি তোলা হয়। উপজেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড আজো তার কোন ব্যবস্থা করতে পারেনি।