দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার চত্বরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার জব্দ যানবাহন। মামলার আলামত হিসেবে বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে নামিদামি জিপ, পাজারো, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও আদালতের নির্দেশনার অভাবে অচল হয়ে পড়েছে শতাধিক যানবাহন।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, থানার আবাসিক এলাকায় সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে জব্দ করা গাড়ি। অনেক গাড়ির টায়ার মাটির নিচে দেবে গেছে। কারও জানালা-দরজা ভেঙে পড়েছে, কোথাও আবার মরিচা পড়ে গাড়ির চেহারা পাল্টে গেছে। বছরের পর বছর সূর্যের তাপ, বৃষ্টির পানি ও ধুলাবালিতে পড়ে থেকে এগুলো এখন কঙ্কালসার লোহার ভাঙারি ছাড়া আর কিছু নয়।থানা সূত্রে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনা, চুরি, চোরাই পণ্য পরিবহন, মাদকদ্রব্য বহনসহ নানা অপরাধের অভিযোগে দাউদকান্দি থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ সময় সময় এসব যানবাহন জব্দ করে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গাড়িগুলো থানায় খোলা আকাশের নিচেই পড়ে থাকে। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার কারণেই যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যানবাহনগুলো একসময় সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।এ বিষয়ে থানা সংশ্লিষ্টরা জানান, মালিকরা মামলা চলমান থাকার কারণে অনেক সময় গাড়ি ছাড়াতে আসেন না। আবার আদালতের অনুমতি ছাড়া এসব যানবাহন নিলামে বিক্রি করারও সুযোগ নেই। থানা কর্তৃপক্ষও অনেক সময় আদালতকে সঠিকভাবে অবহিত করে না। ফলে বছর বছর গাড়ি জমতে জমতে থানা প্রাঙ্গণ ভরে উঠলেও এর কোনো কার্যকর সমাধান হয় না।দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “থানায় রাখা গাড়িগুলো বিভিন্ন মামলার আলামত। মামলা চলমান থাকায় আদালতের নির্দেশনা ছাড়া এগুলো আমরা ফেরত দিতে পারি না। অনেক মালিক কাগজপত্রের জটিলতা কিংবা মামলা নিষ্পত্তির ঝামেলার কারণে যোগাযোগ করেন না। ফলে গাড়িগুলো অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”স্থানীয়রা জানান, অযত্ন-অবহেলায় থানায় পড়ে থাকা এসব গাড়ির বর্তমান মূল্য কোটি কোটি টাকা হলেও বছরের পর বছর ফেলে রাখায় তা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে যেমন রাষ্ট্রের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি মামলার নিষ্পত্তির পর মালিকরাও আর তাদের গাড়ি ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ফিরে পাচ্ছেন না।সচেতন মহলের অভিমত, জব্দ যানবাহনগুলো দ্রুত নিলামের ব্যবস্থা বা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের পদক্ষেপ না নিলে এভাবে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় চলতেই থাকবে। আদালত ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা থেকে উত্তরণের কোনো পথ নেই।