ভোলা জেলার বিভিন্ন সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের কথিত হয়রানি, চাঁদাবাজি ও শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ভোলা জেলা শাখা।

সোমবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় ভোলা প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শতাধিক সিএনজি চালক ও শ্রমিক অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালকদের নানা ধরনের হয়রানি, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মুখে কাজ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতি সিএনজিতে পাঁচজন যাত্রী বহনকে কেন্দ্র করে বাস মালিক সমিতির সঙ্গে বিরোধের জেরে চালকদের ওপর হামলা, হুমকি ও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা বলেন, এসব ঘটনায় শ্রমিকদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক চালকের পরিবার জীবিকা সংকটে পড়েছে। তাই সিএনজি শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মানববন্ধন থেকে সিএনজি শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিএনজিতে পাঁচজন যাত্রী বহনের সুযোগ নিশ্চিত করা, স্বল্পমূল্যে গ্যাস সরবরাহ, শ্রমিকদের ওপর সব ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজির ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিএনজির জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন।

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ভোলা জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. বাহারুল ইসলাম বলেন, “সিএনজি শ্রমিকরা দেশের পরিবহন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে পরিবহন খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।”

জেলা সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন রিপন বলেন, “আমাদের দাবিগুলো কোনো বিলাসিতা নয়; এগুলো শ্রমিকদের ন্যায্য ও মৌলিক অধিকার। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছি। তবে দাবি বাস্তবায়নের প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

এ সময় বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, চরফ্যাশন উপজেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক নেতারা বক্তব্য দেন।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে সিএনজি শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে নেতারা সতর্ক করেন।