ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি থেকে জৈনাবাজার পর্যন্ত অংশে প্রতিদিনই অবাধে চলাচল করছে শত শত অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে যান চলাচল করায় একদিকে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে চলছে নীরব চাঁদাবাজির উৎসব।
বিশেষ করে মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসেতুর নিচে ও আশপাশের ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ অস্থায়ী অটোরিকশা স্ট্যান্ড। এতে করে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, হাইওয়ে ও জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নীরব সম্মতিতেই এই অনিয়ম চলছে।
মাসে ৪০ লাখ টাকার বেশি চাঁদাবাজি
মাওনা হাইওয়ে থানার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মাস্টারবাড়ি থেকে জৈনাবাজার পর্যন্ত রুটে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে চলাচল করছে প্রায় ৪০০টি অবৈধ অটোরিকশা। এসব অটো থেকে প্রতি মাসে অন্তত ২৮ লাখ ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।
শ্রীপুর উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, “গত বছর আগস্টে কিছুদিন মহাসড়কে অটো চলাচল বন্ধ ছিল। তবে নতুন হাইওয়ে ওসি যোগদানের পর থেকে আবারও প্রকাশ্যে চলছে এই চাঁদাবাজি ও যান চলাচল। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান হলেও তা অর্থের বিনিময়ে থেমে যায়।”
অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশ দাবি করেছে, তারা নিয়মিত অভিযান ও মামলা করছে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। ট্রাফিক পুলিশের সামনেই মহাসড়কে চলাচল করছে শত শত অটোরিকশা, যেগুলো থেকে তারা প্রকাশ্যে যাত্রী তোলে।
বিশৃঙ্খলার পথে পরিবহন ব্যবস্থা
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল ও চাঁদাবাজি পরিবহন ব্যবস্থাকে চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও হাইওয়ে থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহন পুরোপুরি অপসারণে প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে তাদের কার্যকারিতা।