দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। গত ১০ মাসে ১০ হত্যাকান্ডসহ একের পর এক ঘটছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবজির ঘটনা। আধিপত্য বিস্তরসহ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ঘটছে হামলা-মামলার ঘটনাও। প্রশাসনের কাছে গিয়েও মিলছেনা তেমন প্রতিকার। যা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় সাধারণ মানুষ। তারা দুষছেন প্রশাসনের নিস্ক্রীয়তাকে। তবে এর দায় নিতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন। তারা বলছেন সবই নাকি স্বাভাবিক রয়েছে।

বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে ছিনতাই, অস্ত্রের মহড়া ও হামলার ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়দিনই ঘটছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে এবং নীরব চাঁদাবাজিতো রয়েছেই। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও মাদক ব্যবসাসহ নানা কারণে ঘটছে হামলা-মামলা এবং হত্যাকান্ডের ঘটনাও। এ যেন অপরাধের বিরণক্ষেত্র। যা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় সাধারণ মানুষ।

শুধু তাই নয় উপজেলার যে কোন উন্নয়ন কাজেও ঠিকাদারদের দেয়া হচ্ছে হুমকি। কাজের সাইডে করা হচ্ছে হামলা। বিভিন্ন পার্টির পরিচয়ে উড়োচিঠির মাধ্যমে চাওয়া হচ্ছে মোটা অংকের চাঁদা। থানায় অভিযোগ দেয়ার পরও মিলছেনা কোন প্রতিকার। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। আর এর জন্য প্রশাসকেই দায়ী করছেন তারা।

গত ৫ আগস্টের পর থেকে এ উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে অপরাধ প্রবনতা বাড়লেও অপরাধীরা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা না থাকায় অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী অনেকেই।

প্রকাশ্য দিবালোকে ইউপি চেয়ারম্যান খুনসহ গত ১০ মাসে অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দিনে ও রাতে ৮ থেকে ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা, চরের মহিষের বাথানের ৪৬টি মহিষ লুট, দেড় ডজনের বেশী গরু চুরির ঘটনাসহ চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা নিত্যদিনের।

দৌলতপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটনায় প্রশাসনের নিস্ক্রীয়তাকে দায়ী করেছেন দৌলতপুরের সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। তিনি আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেছেন পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্যতা রয়েছে। যার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।

তবে এসব ঘটনার দায় নিতে নারাজ দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমূল হুদা। দৌলতপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পরও তিনি দাবী করছেন, সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে।

সর্বপরি দৌলতপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর ও সক্রিয় হতে হবে। তবেই ফিরবে দৌলতপুরবাসীর মাঝে স্বস্থি। আর এমনটাই মনে করেন সর্বসাধারণ।