মোঃ রফিকুল ইসলাম, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) : প্রতিবছর কম-বেশি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ রাস্তাগুলো। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই গ্রামীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। বর্তমানে কিছু কিছু পাকা, ইটের সোলিং রাস্তার ছাল চামড়া উঠে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। রাস্তাগুলোর অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যাহা জনগণের ধৈর্য্যরে বাইরে। এই রাস্তাগুলো দিয়ে প্রতিদিন জেলা ও উপজেলায় হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের পথ সেই পথগুলো নিয়ে বছরের পর বছর সংস্কারের নামে সিনেমা করা হচ্ছে। সে কারণে বিষয়টি জনগণের ধৈর্যের বাইরে চলে গেছে।সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্তের। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যাও।

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ বাসষ্টান হতে নারায়নপুর হাসপাতাল হয়ে খাঁনজিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কি.মি. নলতা চৌমুনী হতে সাইক্লোন সেল্টার হয়ে নওয়াপাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১৭ কি.মি. কালিগঞ্জ সদর হতে নাজিমগঞ্জ হাট তারপর শীতলপুর¬ হয়ে মুকুন্দপুর হয়ে রতুনপুর হাট পর্যন্ত প্রায় ২০ কি.মি. পিরোজপুর হতে মুকুন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় ১০ কি.মি. ব্রজপাটুলী হতে শুইলপুর বারুইপাড়া হয়ে শুইলপুর মাছের সেট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কি.মি. ইটের সোলিং রাস্তা, মাঘুরালী সরকারী প্রাথমিক স্কুল হতে চৌবাড়িয়া বাবু গাজীর হয়ে ব্রজপাটুলী ভ্যান চালক ফজরের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৬ কি.মি. চৌবাড়িয়া হতে রাজ্জাক দোকানদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০ কি.মি. কালিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ হতে কুশখালী হাট হয়ে সোনাতলা পর্যন্ত প্রায় ২২ কি.মি. রাস্তা। বছরের পর বছর ধরে খোয়া, পিচ ওঠে চলাচলের অযোগ্য হয়ে থাকে। মাঝে মধ্যে মেরামত করা হলেও ৩-৪ মাস বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের পর আবার চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলা এল জি, ই. ডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এলাকার কিছু রাস্তা সংস্কারের কাজ হলেও সীমাহীন দূর্নীতির কারণে তা আবার বছর যেতে না যেতেই গ্রামীণ রাস্তা গুলো যে খারাপ ছিল তার চেয়ে দ্বিগুণ খারাপ হয়ে গেছে। একটি বরাদ্ধ আসলে ঠিকাদার কাজ করতে গেলে কাজ হোক আর না হোক আওয়ালীগ নেতাদের আগে পকেট ভরাতে হবে, নইলে কাজ হবে না।

বিগত ১৭ বছর যা আওয়ালীগের শাসন আমল ছিল কালিগঞ্জের গ্রামীণ রাস্তা - ঘাটের উল্লেথযোগ্য উন্নয়ন নজরে আসেনি। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার ৮নং ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড বাসীদের সাতক্ষীরা জেলা কিংবা নলতা বাজারে যাওয়ার এখন একমাত্র রাস্তা হয়েছে বাগবাটী কামারবাড়ি টু নলতা কদমতলা রাস্তা। এই রাস্তা ছাড়া অন্য কোন রাস্তায় যাতায়াত করলে হয় মটরভ্যানের চাকা, না হয় মটর, চেন,বিয়ারিং আর ইঞ্জিন ভ্যানের চাকা, বাই-সাইকেলের, মটর সাইকেল কিছু না কিছু পার্টস নষ্ট হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওইসব গাড়ীর মালিকরা। এলাকার কৃষক তাদের মৎস্য ও আবাদী জমির ফসল, যেমন বিভিন্ন জাতের সবজি, নানা রকম তরিতরকারী কালিগঞ্জ, নলতা, খানজিয়া, ভাড়াশিমলা বাজার সহ অন্য অন্য বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যেতে বেশী অর্থ খরচ হয় তাদের।

কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের খারহাট গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র, নলতা ইউনিয়নের কাশেমপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কৃষক মোঃ আরশাদ আলী জানান, জমির উৎপাদিত ফসল বিক্রির জন্য তার নলতা, গাজীরহাট, কালিগঞ্জ বাজারে আসতে হয়। কিন্তু রাস্তার ভোগান্তির কারণে বাজারে আসার কথা মনে হলেই ক্লান্তি পেয়ে বসে। কিন্তু উপায় না থাকায় এ ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় ঝাকুনি খেতে আসতে হয়। কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা অমল কুমার ম-ল তিনি বলেন, গর্ভবতী মহিলা সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষদের উক্ত রাস্তা গুলো দিয়ে দ্রুততম সময়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া মামালা-মোকর্দ্দমা ও ব্যবসার কারণে প্রায় তাকে সাতক্ষীরায় আসতে হয়। সাতক্ষীরায় একবার আসলে ২-৩দিন লাগে সুস্থ হতে। শরীর ব্যথা হয়ে যায়।

উল্লেখিত রাস্তাগুলোতে গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচল অযোগ হয়ে পড়েছে। ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। তবে গর্ত সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাস্তাগুলো মেরামতের সময় হয়েছে সীমাহীন দূর্নীতি চলাচল রাস্তার বেহাল অবস্থার অন্যতম কারণ। রাস্তার উপর মাটি পড়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টি বা কুয়াশায় ভারী যানবাহন উল্টে যাচ্ছে। রাস্তার এই করুণ দশা খুবই দুঃখজনক। তাই উল্লেখিত রাস্তাগুলো দ্রুততম সময়ে সংস্কার হয় সে ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী মহল।