আবদুল মজিদ, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার গ্রাম-গঞ্জ থেকে কামার শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। হাতুড়ি পেটানো টুংটাং শব্দে-তেমন মুখর নেই কাজিপুর উপজেলায়। লোহা পুড়িয়ে লাল করে পিটিয়ে দিনরাত ধারালো দা, বটি, ছুরি, চাপাতি তৈরিতে কোন ব্যস্ততা নেই কারিগরদের। এদিকে, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে তেমন বেচাকেনা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্যসায়ীরা। হারিয়ে যাচ্ছে কামার শিল্প। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব আর আধুনিক সব জিনিসপত্র পাওয়া আশায় জেলাতে কামার শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে জেলার একমাত্র কামার শিল্পক্ষেত্রে অনেক কামাররা বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। পূর্বপুরুষদের পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে তারা। তবে কিছু লোকজন এখনও ওই কামার শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে। এখানকার কামাররা সাধারনত মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দা-বটি, কান্তে, লাঙ্গলের ফল কোদাল, তারকাঁটাসহ বিভিন্ন প্রকার উপকরন তৈরি করে হাট-বাজারে বিক্রি করে থাকে। তবে বর্তমান আধুনিক যুগের অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের ফলে হাতের তৈরি লোহার জিনিস পত্র মানুষ এখন আর বেশি ব্যবহার করছেনা। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ধাতব দ্রব্যের তৈরি আধুনিক উপকরণ পাওয়ার কারনেই লোহার উপকরণের প্রতি মানুষের তেমন আগ্রহ নেই। স্থানীয় কামার শাহা আলী ও এন্তাজ আলী কর্মকার জানান, তাদের তৈরি লোহার জিনিসপত্রের চাহিদা আগের তুলনায় অনেকাংশে কমে গেছে। ফলে কামার শিল্পের সাথে জড়িতদের সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশা ধরেছেন। আবার অনেকে তার বাপ দাদার পেশা ছাড়তে পারছেন না। একরকম কোন উপায় না পেয়েই তারা তাদের পৈত্রিক এ পেশাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে তারা জানান, সরকার এ শিল্পে কিছুটা সহায়তা করলে অনেকেই পেশাটি ধরে রাখবেন এবং অন্যান্যের এ পেশায় ফিরে আসা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
কাজিপুরে কামার শিল্প বিলুপ্তির পথে
সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার গ্রাম-গঞ্জ থেকে কামার শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে।
Printed Edition