এম এ কাইয়ুম চৌধুরী, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা: মানিকগঞ্জের ঘিওরে জমে উঠেছে ২০০ বছরের পুরনো ও বৃহত্তর নৌকার হাট। বর্ষার শুরুতে নদ-নদীতে পানি না থাকায় নৌকার বেচাকেনা ছিল খুব কম। কিন্তু সপ্তাহখানেক ধরে বাড়ছে পানি। পদ্মা, যমুনা, কালীগঙ্গা, ইছামতি, ধলেশ্বরীসহ ছোট-বড় বেশ কয়েকটি নদীবেষ্টিত জেলা মানিকগঞ্জ। নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার নি¤œাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তাই আগে ভাগেই সাধ্যের মধ্যে নৌকা কেনা শুরু করেছেন মানুষজন।

গত বুধবার হাটে দেখা গেছে, উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে নৌকার হাটে বিভিন্ন আকারের, বিভিন্ন ডিজাইনের নৌকা উঠেছে। নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়িয়ে হাটসংলগ্ন ডিএন পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠেও বেচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠছে হাট।

ঘিওর হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ খান পাষাণ বলেন, সপ্তাহের প্রতি বুধবার বসা এ হাটে প্রায় এক থেকে দেড়শ’ নৌকা বিক্রি হয়। আকারভেদে প্রতিটি নৌকার দাম পড়ে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। প্রতি হাটে কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার নৌকা বেচাকেনা হয়।

হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, প্রতি বছর বর্ষায় জেলার ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার নি¤œাঞ্চলের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। এ অবস্থায় মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। বর্ষার শুরুতে তাই ঘিওরের নৌকার হাটে কেনাবেচা বাড়তে থাকে এ বাহনের। পানি বাড়লে পাল্লা দিয়ে বাড়ে নৌকা কেনাবেচা।

খলসী গ্রামের নৌকা নির্মাতা ও বিক্রেতা নিমাই চন্দ্র সূত্রধর বলেন, আমাদেরে তৈরি এই নৌকা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। নৌকা তৈরিতে মেহগনি, কড়ই, আম, চাম্বল এবং রেইন্টি কাঠের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি করে থাকি। জিনিসপত্রের দাম বেশি। কিন্তু বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি না।

ডিএন পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক পীযুষ দত্ত বলেন, ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদী তীরের এই হাটের জন্ম ব্রিটিশ শাসনামলে আঠারো শতকের গোড়ার দিকে। বর্ষাকালে নৌকার হাট বেশ জনপ্রিয় ও জমজমাট হয়। এই হাটের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। আশাপুর গ্রামের সমেজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি খুবই নিচু। সামান্য বর্ষাতেই রাস্তাঘাট সব তলিয়ে যায়। বর্ষায় নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। পানি বাড়লে নৌকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই ঘিওর হাট থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি বড় ডিঙি নৌকা কিনলাম।

নৌকা বিক্রেতা জাবরা গ্রামের কানাই চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ১০ হাত লম্বা এবং আড়াই হাত প্রস্থের একটি নৌকার মূল্য পাঁচ হাজার টাকা। আকার ভেদে নৌকার দামের তারতম্য হয়। এ রকম ১১ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকা ৬ হাজার, ১৩ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের একটি নৌকার দাম ৭ হাজার আর ১৫ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকা আট থেকে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন ভূইয়া বলেন, এই নৌকার হাটটি জেলার ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। এই হাটের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে।