ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা : বর্ষার আগমনকে ঘিরে জমে উঠতে শুরু করেছে ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী চাঁইয়ের হাট। পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে সপ্তাহের হাটে চাঁইগুলোর ব্যাপক চাহিদা। উপকূল হিসেবে পরিচিত পিরোজপুর জেলা পানিতে ডুবে যায় বর্ষার শুরুতে। পিরোজপুর জেলার সিংহভাগ এলাকা বর্ষার শুরুতেই প্লাবিত হওয়ায় গ্রামীণ মানুষের মাছ ধরার ফাঁদ হিসেবে চাঁইয়ের ব্যবহার করে। নদী, খাল ও বিল উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়ন এর ওপর দিয়ে প্রবাহমান থাকায় শত বছর আগে থেকেই বলের, পানগুচি ও কঁচা নদীর তীরের পাড়েরহাট, ইন্দুরকানী, পত্তাশী, বালিপাড়া ও চন্ডিপুর বাজার চাঁইয়ের হাটের জন্য প্রসিদ্ধ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ বাজারে সড়ক ও নদীপথে বিক্রির জন্য অর্ধশতাধিক ব্যক্তি চাঁই নিয়ে হাটে এসেছে। তবে তাদের মধ্যে স্থানীয় কৃষক বেশি। ইন্দুরকানী উপজেলা ছাড়াও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা থেকে বিক্রির চাঁই নিয়ে আসেন এই হাটে। দুর দুরান্ত থেকে ক্রেতারাও ছুটে আসছেন এখানে। বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক দঁড়ি, নারকেলের তৈরি এক ধরনের দড়ি (কাতা), বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয় চাঁই। কুঁড়ি (বিশটি এক কুঁড়ি) হিসেবে, পিচ হিসেবে বিক্রি করা হয় চাই। ৬ হাজার থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত এক কুঁড়ি চাঁই বিক্রি হয় এ বাজারে। বেশ কয়েকজন চাঁইয়ের কারিগর ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা হলে জানান, বর্ষা এলেই এ অঞ্চলে চাঁইয়ের চাহিদা বেড়ে যায়। সারা বছর অন্য কাজ করলেও এসময় তারা শুধু চাঁই তৈরি করেন। বছরের তিন থেকে চার মাস তাদের এ ব্যস্ততা থাকে। এখন দিন-রাত চাঁই তৈরিতেই সময় কাটছে তাদের ও এ কাজে সাহায্য করে থাকে গৃহিনীরা। এ হাটের চাঁই পাইকারী ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জায়গা বিক্রি করে থাকেন পাইকাররা। চাঁই বিক্রি করতে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর প্রথম হাটে এসেছি। ৪ হাজার টাকা কুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে। এক কুঁড়ি চাই তৈরিতে হাজার খানেক টাকা খরচ হয়।
হাচান নামের এক চাঁই বিক্রেতা জানান, কুঁড়ি ৩ হাজার টাকা ধরে ১২পিচ বিক্রি করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম কম।
পাইকারী ক্রেতা মিজান ফকির বলেন, গত বছরের তুলনায় কুঁড়িতে ৪০০-৫০০ টাকা বেশি। এক পিচের দাম ১০০ থেকে ১২৫ টাকা পড়ে।