রফিকুল ইসলাম, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) : কালিগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নে আগাম জাতের শীতকালীন সবজির চারা রোপণ করা হলেও এ বছর ঘন ঘন বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে তা পচে গেছে। এজন্য এবার সবজির চারা রোপণে দ্বিগুণ খরচ করতে হচ্ছে কৃষকদের। অপরদিকে শীতকালীন এসব সবজির বাজারে উঠতেও দেরী হবে। ফেেলউপজেলার কৃষকেরা লোকসানের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি চাষের মৌসুম থেকে পিছিয়ে পড়েছেন।
কালিগঞ্জের মধ্যে অধিকাংশ সবজি উৎপাদন হয় নলতা, ভাড়াশিমলা,তারালি, কুশুলিয়া চম্পাফুল ইউনিয়নে। উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হয় সাতক্ষীরা জেলা সদর সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে এ বছর টানা ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে এসব এলাকার ফসলের ক্ষেত। ফলে এখানকার কৃষকেরা দেরিতে সবজি উৎপাদন শুরু করেছেন।
কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশেমপুর গ্রামের কৃষক রনজিত মন্ডল দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, ‘বর্ষার শেষ দিকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় উন্নতমানের সবজির চারা উৎপাদন করে চাষিদের কাছে বিক্রি করি। তবে গত মাসে টানা বৃষ্টির কারণে প্রথম দফায় বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। তাতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এই গ্রামের অন্যরাও বাঁধাকপি ও ফুলকপির বীজ বপন করেছিলেন। তবে বৃষ্টিতে প্রথম দফার বীজতলা ও রোপণ করা চারা ন’ হয়েছে। এজন্য আবার নতুন করে সবজি চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করেছেন অনেকে। এতে মৌসুমের শুরুতে বাজার ধরতে না পারায় উৎপাদিত সবজির বাজারদর কম পাওয়ার শঙ্কায় তারা। তবে এলাকার কিছু কিছু কৃষকেরা তাদের উঁচু জমিতে শীত শুরু হওয়ার আগে শীতকালিন সবজি যেমন- পালন শাক, লাল শাক, ওল কপি, ফুল কপি, মুলা, সীম সহ অন্য অন্য সবজি কেবল বাজারে আসছে তারা দাম ও ভাল পাচ্ছে।আর ক্রেতাদের চড়া দামে কিনতে হচ্ছে।
ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে ১ লাখ টাকা খরচ করে আগাম জাতের শীতকালীন সবজির চারা রোপণ করেছিলাম। গত মাসে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে সব চারা মরে যায়। আবার নতুন করে চারা লাগিয়েছি। কিন্তু এই সবজি যখন বাজারে উঠবে, তখন সবজির ভালো দাম পাবো না।’
নলতা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আশরাফ আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ক্ষেতের সবজি ন’ হয়ে গেছে। এতে কালিগঞ্জের স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। নতুন করে শীতকালীন সবজি বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই।’
কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শফিউল্লাহ দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে শীতকালীন সবজি ও আবাদি জমির ফসলের চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পরামর্শ, বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। এরই মধ্যে তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান।’
তিনি বলেন, ‘এ বছর টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার প্রায় এক হাজার একর জমির ফসল। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৫০০ জন গত বছর উপজেলায় প্রায় ৫০০ একর জমিতে রবি ফসলের আবাদ হয়েছিল। জলাবদ্ধতার কারণে এ বছর নভেম্বর মাস পর্যন্ত শীতকালীন সবজি চারা রোপণ করতে হবে। জমি থেকে পানি কমে গেলে চাষাবাদ আরও বাড়বে।’