মংলা সংবাদদাতা : দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর গাড়ির চাপ কমাতে মংলা বন্দরের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা কাস্টমস হাউজের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং সার্বিক বাণিজ্য কার্যক্রম সহজ করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মোংলা কাস্টমস হাউজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান এই পরিকল্পনার কথা জানান। সভায় কাস্টমস কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “মংলা বন্দরের সক্ষমতা অনেক বেশি হলেও এর ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। পদ্মা সেতুর কল্যাণে রাজধানী ঢাকার সাথে যেহেতু সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে, তাই এই বন্দর ব্যবহারের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গাড়ি আমদানিসহ সকল প্রকার পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবসায়ীদের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা প্রদানে কাস্টমস হাউজ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সর্বদা প্রস্তুত।”
সভায় মোংলা কাস্টমস হাউজের কমিশনার ম: সফিউজ্জামান গেল ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হ্রাসের কারণগুলো তুলে ধরেন। একইসাথে তিনি কাস্টমস হাউজের জন্য একটি নতুন প্রশাসনিক ভবন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট নিরসনে আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, মোংলা বন্দরে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে হলে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।
সভার শেষে এনবিআর চেয়ারম্যান পুনরায় দেশের রাজস্ব আয় বাড়াতে সকল প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের কাস্টমস নীতি ও আইটি শাখার সদস্য (গ্রেড-২) মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর, কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন সদস্য (গ্রেড-২) মো: মোয়াজ্জেম হোসেনসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, খুলনা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার, আপিল কমিশনারেট (খুলনা) এর কমিশনার এবং সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী জনাব মাসুদুর রহমান, ফরিদুল ইসলাম, তৌহিদুর জামান সুমন, ফারুক হোসেন ও নেওয়াজ হাসান।