সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) থেকে ফারুক আহমেদ : সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার গাঢ়ুদহ নদী এক শ্রেণির প্রভাবশালীর অবৈধ দখল আর দুষণের কবলে পড়েছে। নদী খনন না করা আর অব্যবস্থাপনার কারণে নদীটির নাব্যতা প্রায় হারিয়েই যাচ্ছে। নদীর পশ্চিম পাড় জুড়ে অবৈধ দখলদারিত্বের প্রতিযোগিতা বেড়েই চলেছে। নদীর পাড়ে পাইলিং করে জায়গা দখল নিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ চলছে নির্বিকারে। গৃহস্থালী ও সলঙ্গা বাজার-হোটেলের পচা-বাশি ও বর্জ্য ফেলে নদীর পানি দুষিত করা হচ্ছে। ফলে গাঢ়ুদহ নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এক সময় গোসল, কাপড় ধোয়া, থালা-বাসন পরিষ্কারসহ গৃহস্থালীর সব কাজে এ নদীর পানি ব্যবহার হত। কিন্তু দূষণ মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ নদীর পানি আর ব্যবহার করা যায় না। সলঙ্গার স্লুইচ গেটের রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার জন্য গার্লস স্কুল, বালক প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ একাডেমী, মোস্তফা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, আদর্শ কেজি স্কুল, সলঙ্গা ফাজিল মাদরাসা, সলঙ্গা ডিগ্রী কলেজ, সলঙ্গা মহিলা কলেজ, হাফিজিয়া মাদরাসা, সাব রেজিস্ট্রি সমিতি, কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের মুসুল্লীদের নামায আদায়সহ বাজারের ক্রেতা বিক্রেতাদের প্রবেশের এই রাস্তাটি দূষণের কারণে যাতায়াতে করুণ অবস্থা। যা চোখে না দেখলে বিশ্বাসযোগ্য নয়। অথচ গাঢ়ুদহ নদীর ধারে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলে স্লুইচ গেটসহ নদীর পশ্চিম পাড় পুরো এলাকা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে তৈরি করেছে দোকান পাট, সেলুন ঘর, পোল্ট্রি ব্যবসা, স্টিলের দোকান, মুদি খানা, মোবাইল দোকান, স’ মিলসহ আবাসিক ভবন। স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে জাল কাগজমুলে নদীর পশ্চিম পাড় দখলে নিয়ে অনেকেই ভবন ও আধা পাকা দোকান ঘর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করেন, নদীর পশ্চিম পাড়ে গড়ে তোলা এ সব ভবণের মালিক হচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। তবে নদী দখলের কথা অস্বীকার করেন কতিপয় ঘর মালিকরা। তারা বলেন,আমাদের পৈত্রিক/কেনা জায়গার উপর ভবণ ও ঘর নির্মাণ করেছি। জমির সকল প্রকার বৈধ কাগজ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। সলঙ্গার অনেক বয়োজোষ্ঠ মুরুব্বীরা জানান, এক সময় গাঢ়ুদহ নদীর বুকে পাল তোলা পণ্যবাহী সারি সারি নৌকা যাতায়াত করত। অব্যবস্থপনার কারণে সেই নদীটি এখন মরা খাল।

গাঢ়ুদহ নদীটি খনন ও নদীর পশ্চিম পাড় অবৈধ দখলদারমক্ত করতে সলঙ্গার সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি নিয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ন কবীর জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেলে অবৈধ নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।