শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: সুন্দরবনে অনুপ্রবেশ, অবৈধ আহরণ ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- প্রতিরোধে পশ্চিম বনবিভাগের উদ্যোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন অভয়ারণ্য, খাল ও নদীতে বনরক্ষীরা টহল দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে জানান বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কিছু অসাধু চক্র অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করছে। কেউ কেউ বিষ ব্যবহার করছে আবার অনেকে জাল ফেলে নির্বিচারে মাছ আহরণ করছে। এমনকি বন্যপ্রাণী শিকারেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়ম ও অপরাধ বন্ধ করতেই এ বিশেষ অভিযান হাতে নেওয়া হয়েছে।

অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন নৌকা ও জাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি কয়েকজন জেলেকে আটক করে বন আইনের আওতায় মামলা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় জেলে একরামুল (ছদ্মনাম) অভিযোগ করে বলেন, “সুন্দরবনের ক্ষতির মূল কারণ কিছু দালাল চক্র ও কোম্পানি। তাদের সাহসেই জেলেরা নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। সুন্দরবনকে সুরক্ষিত রাখতে হলে এসব দালাল ও কোম্পানিকে অপসারণ করতে হবে।” একই এলাকার জেলে মোজাম্মেল হক বলেন, “অসাধু কোম্পানি ও জেলেদের কারণে নিরীহ জেলেরা যেন চাপের শিকার না হয়, সে ব্যাপারে বনবিভাগের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।”

পশ্চিম বনবিভাগের সরকারি বন সংরক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলেদেরও সচেতন করা হচ্ছে যেন তারা বৈধ পাসপারমিট ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ না করে এবং ক্ষতিকর পদ্ধতিতে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকে।

স্থানীয় সচেতন মহল বনবিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছেন, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হলে সুন্দরবনের সম্পদ ও বন্যপ্রাণী অনেকাংশেই সুরক্ষিত থাকবে।