মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় গবাদি পশুর খামারগুলোতে এখন ব্যাপক ব্যস্ততা এবং প্রস্ততি চলছে। খামার গুলোতে কুরবানির প্রাণী লালন পালনে প্রাণান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন খামারিরা। গত বছর ভারতীয় গরু প্রবেশ সীমিত থাকায় স্থানীয় খামারিরা ভালো লাভবান হয়েছে। এ বছর অনেকেই নতুন উদ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গবাদি প্রাণী পালন করছেন। চলতি মওসুমে রংপুরের ৮ উপজেলায় কুরবানির জন্য প্রায় ৩ লাখ ৬৬ হাজার গবাদিপ্রাণী প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এ সব প্রস্তুতকৃত প্রাণীর বিপরীতে জেলায় কুরবানির প্রাণীর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজারের বেশি। এতে চাহিদার তুলনায় প্রস্তত প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার গবাদি প্রাণী বেশি থাকার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।

এবারে কুরবানির বাজারে ভালো দামের আশায় গবাদি প্রাণীর যত্ন সহকারে পরিচর্যা করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। অনেক খামারি ইতোমধ্যে খামার থেকে গবাদিপ্রাণী বিক্রি শুরু করেছেন। কেউবা আবার বিক্রির পথ বেছে নিয়েছেন অনলাইন প্লাটফর্ম। এবার এ অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত প্রাণী অন্য এলাকায় সরবরাহ করা যাবে। তবে গবাদিপ্রাণীর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় প্রাণীর দাম কিছুটা বেশি হবে বলে জানান খামারীরা।

এদিকে বাজারে গরু, মহিষ,ছাগল, ভেড়াসহ কুরবানির প্রাণী হাট-বাজার গুলোতে উঠতে শুরু করেছে। জানা গেছে এখন গরু-ছাগলের বাজার স্বাভাবিক আছে এ মাসের মাঝামাঝি সময় হতে কুরবানীর প্রাণীর চাহিদা বাড়বে। গরুর খাদ্যের তালিকায় খামারীরা প্রাকৃতিক ঘাসের পাশাপাশি খৈল, গমেরভূষি, ধানেরকুঁড়া এবং নিজেদের তৈরি দানাদার খাবার খাইয়ে প্রাণী মোটাতাজা করছেন। ব্যস্ত খামারীরা প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সেবাও নিশ্চিত করছেন। তবে গবাদিপ্রাণী পালন করতে নানাধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন খামারীরা। বিশেষ করে গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যের দাম বাড়ায় গবাদিপ্রাণী পালনে খরচ বেরেছে কয়েক গুণ। এতে কাঙ্খিত লাভ নিয়ে শঙ্কিত খামারীরা।

স্থানীয় খামারী শাহিন বলেন, “গত বছর ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় খামারীরা ভালো দাম পেয়েছিল। সেই আশা নিয়েই এবার বেশি করে কুরবানির প্রাণী লালন-পালন হয়েছে। বাজারে কুরবানির প্রাণীর ন্যায্যমূল্য পেলে খামারীরা লাভবান হবে বরে তিনি আশা করছেন। খামারীরা জানান, “পবিত্র ঈদুল আযহার গবাদিপ্রাণী বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। যদি ভারত থেকে গরু না আসে তবে ন্যায্য দাম পাবো বলে আশা করছি”। তারা জনান, “কুরবাণীর প্রাণীর খাবারের দাম বেশী হওয়ায় এবারে ব্যয় অনেক বেশী, তাই ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য অবশ্যই বাইরের চোরাচালানের প্রাণী প্রবেশ বন্ধ করতে হবে”। খামারীদের দাবি হচ্ছে দেশীয় খামারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাদের বিশ্বাস, বিদেশী প্রাণীর প্রবেশ রোধ হলে স্থানীয় ভাবে পালন করা গবাদিপ্রাণীর ভালো দাম পাওয়া যাবে, এছাড়া খামারীরা লাভবান হবে”।

এব্যাপারে রংপুর ডেইরী ফার্মার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমান মিলন বলেন, “ কুরবানির জন্য এবার রংপুরে চাহিদার চেয়ে ব্যাপক গবাদিপ্রাণীর মজুদ রয়েছে। ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ না করলে খামারীরা আসন্ন কুরবানির হাটে ন্যায্য মূল্য পাবেন। এবারে বিশ্ব বাজারে খাদ্যের দাম বেশি দেশেরও একই অবস্থা তাই ন্যায্য মূল্য না পেলে খামারীরা লোকসানে থাকবে। এ ব্যাপারে রসরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এ বঅপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মুহাম্মদ নাজমুল হুদা জানান,“এ বছর রংপুর জেলায় কুরবানির প্রাণীর বিক্রির উদ্দ্যেশে ৮ উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার খামারীর ঘরে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৮২ টি গরু এবং ২ লাখ ১০ হাজার ৮’শ ছাগল ও ভেড়া বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এবার জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো যাবে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজারের ও বেশি গবাদিপ্রাণী। পাশাপাশি খামারীদের সকল প্রকার সহযোগিতার কথাও জানান তিনি।