আবু ওবায়দা (কয়রা উপজেলা) সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪ বছর। যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদের ইতিহাস আপনারা জানেন। নতুন কিছু আর বলার নাই। এবার নতুন ইতিহাস তৈরি করতে হবে। নতুন একটি সরকার গঠনের মাধ্যমে এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এদেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গতকাল শনিবার (১৬ই আগষ্ট ) কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেউলিয়া বাজারে জামায়াতে ইসলামীর গণসংযোগ শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময়ে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় নির্বাচনের টাইমলাইন ঘোষণা করেছে। আশা করা যায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারীর ২য় সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তবে এই সরকারকে বুঝতে হবে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। জনগণের প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য সরকারকে নির্বাচন কমিশন সংস্কার করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সংস্কার না করে নির্বাচন করলে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের মত নির্বাচন হলে এ দেশের জনগণ সেটা অংশগ্রহণ করবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আজ ওয়াদাবদ্ধ। জাতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিব। সুন্দর নির্বাচন উপর দেয়ার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে পিয়ার পদ্ধতি গ্রহণ করা।

মাওলানা আজাদ আরো বলেন, পিয়ার পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লোভে পাগল পারা হয়ে গেছে তাদেরকে বুঝতে হবে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে ক্ষমতায় যেতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় না। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে পিআর পদ্ধতিতে যারা নির্বাচিত হবে তারা সংসদ পরিচালনা করবেন। সরকার পরিচালনা করবেন। অতএব আমাদের ভাষা এবং জনগণের ভাষা বুঝে এই সরকারকে আগামী দিনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করার উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

গণসংযোগ কর্মসূচিতে কয়রা সদর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী-দোকানদার ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের নিকট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত পৌছে দেয়ার পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাম্বালীর মানুষের নিকট ব্যাপক দাওয়াতী কাজ করা হয়। কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪নং কয়রা সরকারি পুকুর পাড় হতে শুরু হয়ে কয়রা দেউলিয়া বাজারে এসে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্য দিয়ে গণ সংযোগ শেষ হয়।

গণসংযোগে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি মোল্লা শাহাবুদ্দিন শিহাব, জামায়াতে ইসলামীর কয়রা সদর ইউনিয়ন আমীর গাজী মিজানুর রহমান, সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা মোস্তাকিম বিল্লাহ, বায়তুলমাল সম্পাদক এফ এম মাকসুদুর রহমান, ১ নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ আব্দুস সাত্তার, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি নাঈম হোসেন রকি, ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি প্রভাষক রেজওয়ানুল করিম, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা আব্দুর রশিদ, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ ইউনুস মালী, ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, কয়রা বাজার কমিটির সভাপতি সরদার জুলফিকার আলমসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।