দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাত : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভিজিএফ এর ৭০ বস্তা চাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মেহেদী নামে (২৫) একজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ চাল লুট হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে সালাম হোসেন, বিশু ও মেহেদী হাসান সহ আরো কয়েক জনের বাড়ী থেকে ২২ বস্তা চাল উদ্ধার করেন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। আটককৃত মেহেদী হাসান ওই এলাকার শাহাবুল ইসলামের ছেলে। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দ পাওয়া ভিজিএফের চাল সম্প্রতি বিতরণ শুরু হয়। সুষ্ঠুভাবেই বিতরণ চলছিল। তবে বেলা আড়াইটার দিকে লোকসমাগম কিছুটা কমে গেলে, স্থানীয় সন্ত্রাসী চল্লিশ বাহিনীর প্রধান রাখি ও বিশুর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল সশস্ত্র অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে পড়ে এবং প্রায় ৭০ বস্তা চাল (প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি) লুট করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল, দৌলতপুর থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন। চাল উদ্ধারে পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একরামুল হক, ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহাবুল ইসলাম ও চৌকিদারদের সহযোগিতায় বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, চাল লুটকারীদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অভিযানে মেহেদী হাসান নামে একজনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং চাল উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৭০ বস্তা চাল লুট হয়েছে। লুট হওয়া চাল উদ্ধারে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ইউপি সদস্য ও চৌকিদাররা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছেন।

এ ঘটনায় ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একরামুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।