রায়গঞ্জ সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে অবৈধ কিছু না পেয়ে এক ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে এক গ্রাম হতে আরেক গ্রামে নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে থানার এএসআই নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের চর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায় সম্প্রতি উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের চর পাড়া গ্রামের মৃত মোজা মিয়ার ছেলে নুরু মিয়াকে (৬০) তার বসতবাড়িতে মাদক আছে মর্মে রায়গঞ্জ থানার এএসআই নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী এক কনস্টেবলকে সাথে নিয়ে সাধারণ পোশাকে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী নুরু মিয়ার বসত বাড়ি ও তার শরীরের কোথাও মাদক দ্রব্য না পাওয়া সত্বেও তাকে হাতকড়া পড়িয়ে চরপাড়া গ্রাম হতে পাশের গ্রাম আবুদিয়া এলাকায় মটর সাইকেল যোগে নিয়ে যায়।
এ সংবাদ পেয়ে নুরু মিয়ার বড় ছেলের স্ত্রী বিথী বেগম স্থানীয় মুরব্বিদের জানালে তারা আবুদিয়া এলাকায় একটি বাড়িতে হাতকড়া পড়া অবস্থায় ভুক্তভোগী নুরু মিয়াকে নিয়ে একটি বৈঠক করে। বৈঠক শেষে তার হাতে লাগানো হাতকড়া খুলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নুরু মিয়া জানান, আমাকে হঠাৎ দুইজন সাধারণ পোশাক পড়া পুলিশ এসে তল্লাশি করে কোন কিছু না পেয়ে হতকড়া পড়িয়ে মোটরসাইকেলে নিয়ে যায়। পরে আমার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের জানালে বৈঠকের মাধ্যমে হাতকড়া খুলে ছেড়ে দেয়। এতে তার মানের ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরু মিয়ার বড় ছেলের স্ত্রী বিথী জানান, রায়গঞ্জ থানার দুইজন সাধারণ পোষাক পড়া পুলিশ এসে আমার শশুরের হাতে হাতকড়া পড়িয়ে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যায়।
তল্লাশির সময় তার নিকট ও বাড়িতে কোন মাদক পায়নি পুলিশ। মাদক না পেয়েও তাকে হাতকড়া পড়িয়ে নিয়া যাওয়া দেখে তিনি স্থানীয় মুরব্বিদের জানান। পরে মুরব্বিরা ওই দুই পুলিশের সাথে কথা বলে আমার শশুরকে ছাড়িয়ে আনেন। অপরাধী না হয়েও হতকড়া পড়িয়ে অন্য গ্রামে নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় সচেতন মহলের মাঝে চলছে নানা সমালোচনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই দিন অভিযানে যাওয়া রায়গঞ্জ থানার এএসআই নজরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা নুরু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি করি। তল্লাশি করতে না দিলে তাকে হাতকড়া পড়িয়ে দেই। পরে তল্লাশি করে তার বাড়িতে ও শরীরে কোন মাদকদ্রব্য না পেয়ে স্থানীয়দের মাঝেই তাকে ছেড়ে দেই। কোন অপরাধী না হয়েও তাকে হাতকড়া পড়িয়ে অন্য গ্রামে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদক কারবারীদের হাত অনেক বড়। গ্রামের মুরব্বিদের কথায় একটি বাড়িতে বসে তার হাতকড়া খুলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোন অর্থনৈতিক লেনদেন হয়নি বলেও জানান তিনি। তবে অপরাধী না হলেও তাকে কেনো হাতকড়া পড়িয়ে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হলো এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি দেন নি।
এ বিষয়ে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়ন বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বে থাকা এসআই নীল কমলের নিকট এই অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ সংক্রান্ত কোন বিষয় জানেন না বলে জানিয়ে দেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, থানা পুলিশের এ এসআই নজরুল ইসলাম ও এক কনস্টেবল উপজেলার চড় পাড়া এলাকায় যে মাদক বিরোধী অভিযানে গিয়েছিলেন সে সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর একজন অপরাধী না হলে তাকে কখনোই হাতকড়া পড়ানোর বিধান নাই। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম ভুক্তভোগী নুরু মিয়ার কাছে কোন মাদকদ্রব্য না পেয়েও তাকে হাতকড়া পড়িয়ে অন্যত্র নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।
এ ঘটনায় একজন সাধারণ মানুষকে প্রকাশ্যে হেয় করার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সেই সঙ্গে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষুণœ করে। এলাকার সচেতন মহল ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দায়ী দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।