বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণ হলেই নারীর অধিকার নিশ্চিত হবে। যারা নারীদের অধিকারের কথা বলে, নারীর স্বাধীনতার কথা বলে তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন কেন নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে; কেন নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হয়নি, কেন নারী শিশু ঘরে-বাহিরে নিরাপত্তাহীনতায় ছিল?- প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, অতীতে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তারা নিজস্ব মতবাদ রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। পরিবারতন্ত্র দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয় না। মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাজে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলাম ব্যতীত আর কোনো ধর্ম নারীর অধিকার, মর্যাদা, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেয়নি। ইসলামী জ্ঞান অর্জন করলে তার বাস্তব চিত্র দেখা যাবে এবং বুঝা যাবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার (মহিলা বিভাগ) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। জামায়াতে ইসলামী নারীদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। ইসলাম নারীদের যেই স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও অধিকারের কথা বলেছে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে তা পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত করা হবে।
ড. হেলাল উদ্দিন উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম, মতবাদ বা আইনে নারীদের যথাযথ অধিকার দেওয়া হয়নি। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ হলে নারীর অধিকার নিশ্চিত হবে। ইসলাম বিদ্বেষীরা অপপ্রচার করছে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে নারীরা ঘরে বন্দী থাকবে, বোরকা পরতে বাধ্য করো হবে; কিন্তু না ইসলাম কাউকে বাধ্য করে, জোর করে ধর্ম পালন করার দায়িত্ব দেয়নি। মহান আল্লাহ মহানবী (সা.) কে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তুমি কেবলমাত্র ধর্ম পালনের উপদেশ দাও, তুমি উপদেশকারী। যার ইচ্ছে সে পালন করবে, যার ইচ্ছে সে পালন করবে না। নিশ্চয়ই সকলকেই আমার দরবারে দাঁড়াতে হবে। তাহলে নবী যদি উপদেশকারী হয় ইসলামী রাষ্ট্র কিভাবে ধর্ম পালনে মানুষকে বাধ্য করবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ইসলামী রাষ্ট্রও কেবল উপদেশ দিবে, কাউকে বাধ্য করবে না, করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কুরআনের তালিম বন্ধ করে নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখতে চায় তারা ক্ষমতায় গেলে নারী সমাজের ওপর কত ভয়াবহ নির্যাতন চলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দলের নেতাকর্মীরা নারীদের ওপর হামলা করছে, ধর্ষণ করছে, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করছে অথচ সেই দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। কেউ কারো কথা শুনছে না, মানছে না। ক্ষমতায় বসতে পারলে এরা বেপরোয়া হয়ে দেশবাসীকে জিম্মি করবে। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শিক ও নৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীতে রয়েছে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শিক ও নৈতিক, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত নেতৃত্ব রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ৫ বছরে নয় এক বছরেই দেশকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করবে। ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে বৈষম্যহীন কল্যাণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তাই তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
পল্টন থানা আমীর শাহীন আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, শাহবাগ পশ্চিম থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে হাতিরপুল বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের হাতে সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে ব্যবসায়ীবৃন্দ। ক্ষুদ্র থেকে মাঝারি এমনি বড়-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি করেছে যে দলের নেতাকর্মীরা সেই দলের হাতে কখনো দেশ ও জাতি নিরাপদ নয়। তাই নিজের ও জাতির স্বার্থে আগামী নির্বাচনে চাঁদাবাজদের বয়কট করে ন্যায় ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে এগিয়ে আসতে তিনি উপস্থিত ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে কোনো ব্যবসায়ীকে এক পয়সাও চাঁদা দিতে হবে না। ব্যবসায়ী নির্বিঘেœ স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারবে।
শাহবাগ পশ্চিম থানা নায়েবে আমীর মেজবাহ উদ্দিন সায়েমের সভাপতিত্বে এবং ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল্লাহ আল কাফী’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।