ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা : ঝিনাইগাতীতে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এফিলিস মারাক (৪৫) ও আজিজুর রহমান উরফে আকাশ (৪২) নামে দুই কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সম্প্রতি কাংশা ইউনিয়নের বাঁকাকুড়া পাঁচ নম্বর নামক স্থানে ও গান্দিগাঁও দরবেশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এফিলিস মারাক কাংশা ইউনিয়নের গজনী গ্রামের সুহান সাংমার ছেলেও আজিজুর রহমান গান্ধিগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে।

এনিয়ে গত ৩০ বছরে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে গারো পাহাড়ে নারী পুরুষ ও শিশুসহ এ যাবত ৩৭ জনের প্রান গেছে। অপর দিকে ৩২টি হাতির ও মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে ১৯৯৬ সালে শেরপুরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বন্য হাতির আগমন ঘটে। বন্য হাতির দল দিনে গভীর অরণ্যে আশ্রয় নেয়। রাতে খাদ্যের সন্ধানে নেমে আসে লোকালয়ে। কৃষকদের ক্ষেতের ধান, শাক সবজির বাগান, বাড়ি ঘর ও জান মালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে আসছে। দীর্ঘ দুই যুগের ও বেশি সময় ধরে উপুর্যুপরি বন্য হাতির তান্ডবে পাহাড়ি গ্রামবাসীরা বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। হাতির তান্ডবে পাহাড়ি এলাকায় শতশত একর আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পরে আছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রতিবছর আমন ও বোরো মৌসুমে ধান পেকে উঠার সাথে সাথে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বন্যহাতির তান্ডব বৃদ্ধি পায়। প্রায় প্রতি রাতেই চলে বন্য হাতির তা-ব। উপর্যুপরি বন্য হাতির তা-বে পাহাড়ি গ্রামবাসীরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্য হাতির তা-ব থেকে ক্ষেতের ফসল ও জান মাল রক্ষার্থে গ্রামবাসীরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। ঢাক ঢোল পিটিয়ে মশাল জ্বালিয়ে পটকা ফুটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু যতই হাতি তাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ততই বন্য হাতির দল তেড়ে আসছে লোকালয়ে।