হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনে স্বস্তি এনে দিচ্ছে কচি তালের শাঁস। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্টেশন ও জনবহুল এলাকায় এখন জমে উঠেছে এ মৌসুমি ফলের বেচাকেনা। বিশেষ করে দুপুরের তীব্র গরমে পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শিশু-কিশোরদের কাছে কচি তালদানা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
উপজেলার হাটহাজারী বাসস্টেশন, বড়দিঘীর পাড়, ফতেপুর ও মির্জাপুর সরকারহাট চারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান ও ভ্যানগাড়িতে করে বিক্রি হচ্ছে কচি তালের শাঁস। কেউ দাঁড়িয়ে খাচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গরমের সময় কচি তালের শাঁস শরীরে প্রশান্তি এনে দেয়। একই সঙ্গে এটি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় সব বয়সী মানুষের কাছে এর চাহিদা বাড়ছে। অন্যদিকে পাকা তালের রস দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের পিঠাপুলি ও ঐতিহ্যবাহী খাবার।
ব্যবসায়ীরা জানান, হাটহাজারীতে তালগাছের সংখ্যা আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত তাল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উপজেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কচি তাল সংগ্রহ করে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে।
হাটহাজারী বাসস্টেশনের ভাসমান বিক্রেতা মিজান বলেন, “দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মৌসুমি ফল বিক্রি করছি। এবার পরিবহন খরচ বেড়েছে, তাই তালের দামও কিছুটা বেশি। তারপরও গরমের কারণে ক্রেতার চাহিদা অনেক ভালো।”
আরেক বিক্রেতা মোহাম্মদ জসিম জানান, “আমরা দূর-দূরান্ত থেকে তাল কিনে এনে খুচরা বিক্রি করছি। আকারভেদে প্রতি পিস তাল ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।”
স্বাস্থ্যসচেতনদের মতে, তালের শাঁস শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি হজমে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে পুষ্টি ও শক্তি জোগায়। রক্তশূন্যতা ও ক্লান্তি দূর করতেও এ ফল উপকারী বলে জানান তারা।
বিক্রেতাদের মতে, প্রচণ্ড গরমে সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যকর হওয়ায় তালের শাঁসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। পরিবারের জন্য নিয়মিত এ মৌসুমি ফল কিনে নিচ্ছেন অনেকে।