হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের হালদা নদী থেকে আজ রোববার (২২ জুন ২০২৫) সকালে দু’টি মৃত কাতলা প্রজাতির ব্রুড মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় রামদাস মুন্সীর হাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক রমজান আলী মাছ দুটি উদ্ধার করেন। পরে রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জনাব আলমগীর আজাদির সহায়তায় মাছ দুটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।
উদ্ধারকৃত মাছদুটির বিবরণ:
প্রথম মাছ: দৈর্ঘ্য ৩৮ ইঞ্চি, ওজন ১২.৮৫০ কেজি
দ্বিতীয় মাছ: দৈর্ঘ্য ৩৬ ইঞ্চি, ওজন ৮.৩৫০ কেজি
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হালদা গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিভার রিচার্চ ল্যাবরেটরী কো-অর্ডিনেটর ড. মনজুরুল কিবরিয়া। তিনি জানান, হালদা নদীর ব্রুড মাছগুলো ডিম ছাড়ার পর শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময়টিতে এরোমোনাস ব্যাকটেরিয়া (অবৎড়সড়হধং ংঢ়ঢ়.) সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
ড. কিবরিয়া বলেন, “এরোমোনাস একটি সুযোগসন্ধানী ব্যাকটেরিয়া, যা দুর্বল বা চাপগ্রস্ত মাছের শরীরে সহজে সংক্রমণ ঘটায়। বিশেষ করে যখন নদীর পানি দূষিত হয়, তখন এর সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করে।”
সম্প্রতি হালদা নদীতে অতিবৃষ্টির ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে বৃষ্টির পানির সঙ্গে জৈব ও শিল্প বর্জ্য এসে জমেছে। কুরবানির পশুর চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি নদীতে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে, যা পানিতে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বাড়িয়েছে। ফলে নদীর পানিতে ইউট্রোফিকেশন নামক দূষণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা পানির গুণগত মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মৃত মাছদুটিতে এরোমোনাস সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে:
ত্বকে লালচে ঘা বা আলসার
পাখনার গোড়ায় পচন
ফুলকা ফ্যাকাশে
চোখ ফুলে যাওয়া ও পেট ফোলা
উল্লেখ্য, গত বছরও হালদা নদীতে জুন মাসে সাতটি ব্রুড মাছের মৃত্যু হয়েছিল।
এই বিশেষজ্ঞের মতে, হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ দূষণ রোধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক মিঠা পানির মাছ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে হালদা নদী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।