ফটিকছড়ি সংবাদদাতা : টানা কয়েকদিনের বর্ষণে জল কাঁদায় একাকার হয়ে পড়েছে ফটিকছড়ির বিভিন্ন হাটবাজার। ফলে কোরবানির পশু ক্রয় বিক্রয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে ক্রেতা বিক্রেতারা।

সরেজমিন সোমবার উপজেলার বিবিরহাট বজারে গিয়ে দেয়া যায় বৃষ্টিতে জল কাঁদায় একাকার হয়ে আছে পশুর হাট। হাঁটতেও চরম কষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় ক্রেতা বিক্রেতারা দুর্ভোগে পড়েছে। ক্রেতারা দাম দেখলেও বৃষ্টিতে রাখার ঝামেলায় নিচ্ছেননা। বলছে দু একদিন পরে নেব।

ক্রেতা মোহাম্মদ মফিজ বলেন,বাজারে গরুর দাম দেখতে আসছি। বৃষ্টির মাঝে বাড়িতে গরু রাখার ঝামেলা পোহাতে হবে। কোরবানির একদিন আগে নেব।বিক্রেতা আবুল হাসেম বলেন,কয়েকটা গরু নিয়ে আসছি। একটাও বিক্রি করতে পারিনি। সবাই দাম দেখছে।গত শনিবার নাজিরহাট বাজারেও একই অবস্থা দেখা গেছে। নাজিরহাট বাজারে শত শত গরু দেখা গেছে। ছোট বড় হরেক রকমের গরু উঠেছে বাজারে। তবে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বিক্রি তেমন জমে ওঠেনি। বিক্রেতা আফজাল হোসেন জানান, গরুর বাজার তেমন জমে উঠছে না। দু-তিনদিন পরেই বাজার আরো জমতে পারে। এভাবে উপজেলার প্রায় হাটবাজারের একই চিত্র বলে জানা গেছে।

নানুপুর বাজারের গরু বেপারী সেলিম উদ্দিন জানান, ঝড় বৃষ্টিতে বাজার মন্দা থাকার কারনে তিনটি গরু ১ হাজার টাকা লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেলেও এর মধ্যে দর্শকের সংখ্যাই বেশি। দু-একদিন পরেই বাজার ভালো জমবে বলে আশা করছি। একই দাবি করছেন, বাজার ইজারাদারেরও।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৭ হাজার ৩২০ টির মতো। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪১৯টি। এরমধ্যে ৩৪ হাজার ২১১টি গরু, ৪ হাজার ১১২টি মহিষ, ২৮ হাজার ৭৪০টি ছাগল, ২ হাজার ৩৫৬টি ভেড়া।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মোমিন বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সব পশুর হাটে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে যেখানে প্রয়োজন সেখানে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ভেটেরিনারি সার্জন থাকবে, তারা পশুদের চিকিৎসা দেবেন।