এক ভারতীয় নাগরিককে জমির মালিক সাজিয়ে ভুয়া ডিক্রির কাগজ মূলে খুলনার কয়রা উপজেলায় একশ’ বিঘার একটি মাছের ঘের দখলের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখলবাজির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের দুই নেতার বিরুদ্ধে। বিপরীত মেরুর দুই নেতা একাট্টা হয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ।

কয়রার বানিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা চন্দন রায় মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, চার পুরুষ ধরে বংশ পরম্পরায় তারা সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদে বসবাস করেন। তারা রাজনীতি সচেতন, কিন্ত সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না। হড্ডা গ্রামে তাদের একশ’ বিঘার একটি মাছের ঘের রয়েছে। যার মধ্যে ৬০ বিঘা জমি নিজস্ব মালিকানাধীন। বাকি অংশ লীজ নেওয়া এবং ডিসিআর মূলে প্রাপ্ত। গত বছরের ১৯ নবেম্বর আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী আফজাল শিকারি এবং বিএনপির গফুর গাজীর নেতৃত্বে রতন সরদার গং সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী তাদের মাছের ঘেরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালিয়ে কয়েক লাখ টাকার সম্পদ লুট করে। ঘটনার দিনই তারা ৪/৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে। পাশাপাশি মাছের ঘেরের বাসা থেকে ৩৫ হাজার টাকা সহ ক্যাশবক্সে থাকা হিসেবের খাতাপত্র ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। আমাদের ঘেরে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মাছ ছিল, যা প্রতিনিয়ত লুট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পর তার বাবা কয়রা থানায় বিবাদীদের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। উভয় পক্ষ থানায় গিয়ে দলিলপত্র ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করলে সবদিক বিবেচনায় ওসি প্রতিপক্ষের বক্তব্য খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে নৌবাহিনীর কাছে গেলে সেখানেও কাগজপত্রে চন্দনদের মালিকানা প্রমাণ হওয়ায় গফুর গাজী গংদের ঘেরে অনাধিকার প্রবেশ ও লুটপাট বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারী গফুর গাজী ও আফজাল শিকারী’র সন্ত্রাসী বাহিনী পুনরায় তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তান্ডব ও লুটতরাজ চালায়। হামলায় বৃদ্ধ চাচা এবং ফুফাতো ভাই গুরুতর জখম হন। থানা মামলা না নেওয়ায় অবশেষে তারা কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি দখলকারী রতন সরদারের জন্ম ১৯৮৩ সালের ৭ নবেম্বর। কিন্ত সে বাংলাদেশে ভোটার হয়েছে ২০১৮ সালে। মূলত সে ভারতীয় নাগরিক। সেখানে তার নাম জয় সরকার, ঠিকানা- রাজবাঁধ ক্যানেলপাড়া, থানা- কাঁকসা, জেলা- পশ্চিম বর্ধমান, ইন্ডিয়া। ওখানে একজন পঞ্চায়েত মেম্বারকে হত্যা করে পালিয়ে চলে আসে। তার বাবা, মা, ভাই, বোন, স্ত্রী সন্তান সবাই ইন্ডিয়াতেই আছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে রতন সরদার বলেন, ওই জমি প্রকৃত অর্থে আমাদের। চন্দনের বাবারা দখলসত্ত্বে মালিক হয়েছিল। তার বাবা জ্যাঠারা সবালক হয়ে কোর্টের শ্মরনাপন্ন হলে তাদের পক্ষে জমির রায় পান। কিন্ত প্রতিপক্ষ নানা মামলা মোকদ্দমা দিয়ে তার বাবাকে দেশছাড়া হতে বাধ্য করে। চন্দনদের ঘের তারা লুট করেননি, বরং তাদের ছাড়া মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হলেও আসেনি।

এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা গফুর গাজী বলেন, নুরুল হক ও আক্তারুজ্জামান বাবু এমপি থাকাকালে চন্দন এই দুই এমপির লোক ছিল। দলীয় পরিচয়ে এলাকায় ত্রাস চালিয়েছে। ওরা জমির মালিকদের ১৭ বছরের হারি দেয়নি। আমি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কারো জমি দখল করিনি।

আফজাল শিকারীর পাল্টা অভিযোগ, চন্দনের বাবা তরুণ বাবু আওয়ামী লীগের আমলে এলাকায় একশ বিঘা জমি দখল করে ঘের করেছে। ১৭ বছর কাউকে হারির টাকা দেয়নি। আমি বিএনপির ক্যাডার, এই অভিযোগ করে আমাকে ক্রসফায়ারে দিতে চেয়েছিল। আমি কারো এক শতক জমি দখল করিনি।