মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মোংলা থেকে: সূর্য যখন পশ্চিম আকাশের রঙিন রেখায় ধীরে ধীরে ডুবে যায়, ঠিক তখনই মোংলা বাজার থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে প্রাণ ফিরে পায় এক ব্যতিক্রমী রাতের হাট ‘বউবাজার’। সপ্তাহে দুইদিন বসে এই হাট, যা এখন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষের নির্ভরতার এক আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। মূল বাজারের তুলনায় পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের আগমন।

দিনের ক্লান্ত সূর্য যখন ধূসর আলোয় মিলিয়ে যায়, তখনই বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের মোংলার বুক ছুঁয়ে জেগে ওঠে এই অনন্য রাতের হাট। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, কিন্তু হৃদয়ের খুব কাছে- এই বাজার যেন এক অন্যরকম আবেশে মেতে ওঠে সন্ধ্যার পর থেকেই।

‘বউবাজার’-এর গল্প শুরু করোনাকালে। যখন জীবিকা থমকে গিয়েছিল, তখন স্থানীয় কিছু উদ্যমী মানুষের উদ্যোগে শুরু হয় এই রাতের বাজার। উদ্দেশ্য ছিল শুধু কেনাবেচা নয়- বরং জীবিকার পুনরুদ্ধার, মানুষের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়া। সেই থেকে ধীরে ধীরে এই বাজারে মিশে গেছে মানুষের গল্প, পরিশ্রম, ও জীবনের নতুন স্বপ্ন।

খোলা আকাশের নিচে টাটকা গ্রামীণ বাতাসের গন্ধে ভরে থাকে চারপাশ। বিক্রেতারা সাজিয়ে রাখেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য- তাজা মাছ, রঙিন শাকসবজি, চাল, ডাল, মসলা, ফলমূলসহ আরও অনেক কিছু। ক্রেতাদের মতে, এখানকার দাম সাধারণ বাজারের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কম। এই কারণেই বাজারটি এলাকায় ‘সাশ্রয়ী হাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।