সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের অফিস প্রধান থেকে শুরু করে নিম্ন পদস্থ কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস করেন না। হয় অনুপস্থিত থাকেন, না হয় বিলম্বে আসেন। বেসরকারি ফার্মেসীতে বিক্রয় হয় সরকারিভাবে ক্রয় করা ঔষধ ।

গত সোমবার দুপুরে এক অভিযানে এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। সিলেট দুদকের কর্মকর্তারা এই অভিযান পরিচালনা করেন।

দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত দুদকের অভিযান চলে হাসপাতালে। এসময় হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরের ওয়াশরুমের পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান যাচাই—বাচাই করেন তারা। বহি:বিভাগে ডাক্তারের সহকারীরা রোগীর ব্যবস্থাপত্র লেখা, ডিসপেনসারিতে রোগীদের দেওয়া ওষুধ পাওয়ার স্লিপে ডাক্তারের নাম পদবি ও সিল না থাকা, রেজিস্ট্রার খাতায় ও স্টোররুমে থাকা ওষুধের গরমিল দেখতে পান দুদক কর্মকর্তারা।

তত্বাবধায়কের কক্ষে কয়েকঘণ্টা যাচাই—বাছাইকালে বিগত সময়ের সকল দরপত্রের কাগজপত্র চান তারা। কিন্তু উপস্থিত হাসপাতাল কর্মকর্তারা তত্বাবধায়ক না থাকায় এসব কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। এছাড়াও গেল মে মাসের আগের ঔষধ কেনার ফাইলপত্র বা কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি উপস্থিত দায়িত্বশীলরা।

এসময় দুদক কর্মকর্তারা বলেন, সবকিছুই হাসপাতালের সাবেক স্টোর কিপার সোলেমান গায়েব করে ফেলছে।

অভিযান শেষে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার যাছাই—বাছাইয়ে পাওয়া দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।

সট. জুয়েল মজুমদার— সহকারী পরিচালক, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়। দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা অনিয়মের অনেক কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। এই কাগজপত্র এবং রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ বলেন, আমাদের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান স্যার, ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে থাকায় সাময়িকভাবে আমাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। দুপুর বারোটার দিকে দুদক টিম হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন।

তারা তিনতলা থেকে চতুর্থ তলা, ষষ্ঠ তলা এবং ডিসপেনসারিতে যান। তারা খাদ্যের মান দেখেন, ডিসপেনসারিতে ওষুধপত্র দেখেন, রেজিস্ট্রার খাতাপত্র দেখেছেন। তিনি বলেন, তারা ওষুধের রেজিস্ট্রার খাতা, বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে গেছেন।

এগুলো পর্যালোচনা করে দেখবেন। সেবার মান আরও উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে অনিয়মের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।