কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ইছামতি ও কালিন্দী নদীর সীমান্তবর্তী এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবন জীবিকার নির্ভর ও বেঁচে থাকার একমাত্র পথসহ আয়ের উৎস বিভিন্ন জাতের চিংড়ি রেনুপোনা আহরণ করা। মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত রোজগার করা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সংসারের চাকা ঘোরে নদীতে রেনু পোনা সংগ্রহ করে। এই রেনু পোনা তারা ৩/৪ ভাবে আহরণ করে, নদীর সীমান্ত এলাকায় নেটের জাল পেতে, টেম্পু জাতীয় জাল টেনে, ছোট ছোট নৌকা নিয়ে নদীর মাঝখানে যেয়ে জাল পেতে, নেটের জাল টানা দিয়ে রেণু পোনা আহরন করে। তারপর নদীর পানি নিয়ে বড় পাত্র নিয়ে যেমন বড় নাদা, হাড়ি, ককসিটে ঢেলে দেয়। এরপর পাতা জাল থেকে রেনু পোনা এনে ছেড়ে দেয়। তারপর ওই পাত্র গুলো থেকে বিভিন্ন রেনু বাছাই করে পাইকারী খরিদদারদের কাছে বিক্রি করে।

গত ১৫ জুন ২০২৫ রবিবার ইছামতি নদীর সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবন জীবিকার তাগিদে তারা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত নদীর তীরে নৌকা বৈঠা, নেটজাল, দড়ি, সহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নদীর স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে নদীতে নেট জল ফেলে বাগদা চিংড়ির রেনু, গলদা চিংড়ি রেনু, হরিনা চিংড়ির রেনু, ভেটকিও পারসে মাছের রেনু সংগ্রহ করে নিজেরা অথবা আড়াঁতদারের মাধ্যমে ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। ইছামতি নদীতে রেনু পোনা ধরতে আসা বাগবাটি গ্রামের আরশাদ আলী গাজী, শুইলপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, খারহাট গ্রামের কার্ত্তিক চন্দ্র মন্ডল, দমদমা গ্রাম থেকে আসা আলমগীর হোসেন সহ আরো অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানান, তাদের জীবিকার তাগিদে লড়াই সংগ্রাম করে প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকতে হয়। তাঁরা আরো জানান, আমরা প্রায় সারা বছর এ নদী থেকে বিভিন্ন জাতের রেণু পোনা ধরি কোন কোন সময় ফরিয়াদের, ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করি। কোন দিন লাভ হয়, আবার কোনদিন লছ হয়। প্রশ্ন করা হয় তাঁদের কাছে কি কি মাছের পোনা আপনারা ধরেন? উত্তরে তাঁরা জানান, বাগদা, ছাটি, রসলা, হরিনা, পারসে, ভেটকে সহ নেটের জালে পড়া ধল ও বিক্রি করি।

রেনুপোনা ধরে বিক্রি করে তারা বর্তমানে কিছুটা শান্তিতে আছে বলে জানিয়েছেন। কারণ এখন বর্ষাকাল এই সময়টায় তারা নদীতে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি রেনু সংগ্রহ করতে পারছেন। রেনুপোনা সংগ্রহকারী জেলেরা ক্রয়-বিক্রয়কারী মহাজন নারায়নপুর গ্রামের আজগার আলী, তেতুলিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান, মারকা গ্রামের আছের আলী জানান, বর্তমান এক হাজার বাগদা চিংড়ির রেনু বিক্রয় হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১১ শত টাকা, গলদা চিংড়ি রেনু বিক্রয় হয় হাজার প্রতি ১১/১২ শত টাকা দরে এবং ছাটি রেনু প্রতি পিছ ২/৩ টাকা, হরিনা চিংড়ির রেনু বিক্রয় হচ্ছে ৩/৪ শত টাকা সিকে ওজনে আর ধল বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাড়ি ৮০/৯০ টাকা।

জানা যায়, যদি জালে ঠিক মতো রেনু পোনা পড়ে তা,হলে জনপ্রতি প্রতিদিন এক একটি নৌকায় মাথাপিছু প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার রেনুপোনা সংগ্রহ করতে পারেন। বর্তমান সময়টা আয় রোজগারে খুবই ভালো কাটছে বলে এমনটি জানিয়েছেন ইছামতী নদীতে রেনু পোনা সংগ্রহকারী জেলেরা।