আবদুল হাই ইদ্রিছী, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৩নং মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রুপসপুর গ্রামের আভ্যন্তরীন রূপষপুর বন্দরবাজার থেকে খানিকটা উত্তরে রূপষপুর বন্দরবাজার ভায়া শ্রীরামপুর নায়াবাজার রাস্তা থেকে পূর্ব দিকে রূপষপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। খানাখন্দ আর কাঁদায় পরিনত হওয়ায় রাস্তাটি মানুষ চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বুধবার (১১ জুন) সকালে সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় যুবকদের প্রতিষ্ঠিত রুপসপুর খেদমতে কুরআন সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটির মেরামত করছেন এলাকাবাসী।
কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বৃহত্তর রুপসপুর একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। গ্রামটির পাশে রয়েছে আবহমান ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিজড়িত কেওলার হাওর। গ্রামটি নি¤œাঞ্চল থাকায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তখনই রুপসপুরের রাস্তা দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই গ্রামে রয়েছে রুপসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিদ্যালয়টি ভোট কেন্দ্র ও রূপষপুর লুৎফিয়া ইসলামিয়া টাইটেল মাদরাসা। স্কুল এবং মাদরাসার শত শত ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতে একমাত্র রাস্তা এটি। প্রবাসী অধ্যুষিত রূপষপুর গ্রামের মানুষ এই রাস্তাটির জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে বার বার রাস্তাটি পাকা করণের আশ্বাস দিলেও কোন কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রুপসপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. দুরুদ মিয়া মাষ্টারসহ এলাকাবাসীরা জানান, রুপষপুর বন্দরবাজারের উত্তর পাশে মধ্যরুপষপুর গ্রামের মাহমুদ মিয়ার বাড়ীর ডান পাশ হয়ে রফিক মেম্বারের বাড়ির সামন দিয়ে রুপসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রাস্তাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে থাকেন। বর্ষার সময়ে অল্প বৃষ্টিতেই হাটু পর্যন্ত কাঁদা জমে থাকে। যার কারণে গর্ভবতীরোগী শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তারা আরো জানান, বিগত সরকারের আমলে বার বার আশ্বাস দিয়েও কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ৩নং মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাহিদ আহমেদ তরফদার মাঝে মধ্যে রাস্তায় মাটি ও ইট দিয়ে কাঁদা ও ভাঙা জায়গায় সংস্কার করে দেওয়াতে কোন রকম হাঁটা-চলা করা যাচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এলাকাবাসী সেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটির মেরামত কাজ করছেন। এসময় রাস্তাটি দ্রুত পাকার করণের জন্য সরকারের সংশ্লীষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানান এলাকাবাসী।
কমলগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিব হাসান জানান, রাস্তাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ রাস্তাটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। রাস্তাটি অনুমোদনের জন্য পূর্বে পাঠানো হয়েছে।