নাজমুল হুদা, রূপগঞ্জ : আলোর পিছেই অন্ধকার। এরই মতো রাজধানী ঢাকার অতি নিকটে পূর্বাচল উপশহর সংলগ্ন প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল খ্যাত উপজেলা রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহর সংলগ্ন জনপদ ভোলাব ইউনিয়ন। ঢাকার উপকণ্ঠে রূপগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এ জনপদের চারপাশে শিল্পের গতি, উন্নয়নের তুলনায় শিক্ষা খাতে ছিল একরকম অবহেলিত। প্রায় ৬০ হাজার জনসংখ্যার এই ইউনিয়নে ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মাদরাসা থাকলেও । এতকিছুর মধ্যেও ছিল না একটি কলেজ। ফলে মাধ্যমিকের গ-ি পেরিয়েই অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে আটকে যেতে। হতো আর্থিক অসংগতি, দূরত্ব ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে এ জনপদে উচ্চ শিক্ষার হার ছিল নি¤œগামী। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ধন্যবাদ বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে কলেজ শাখার উদ্বোধনের মাধ্যমে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণ হল।

এই স্বপ্ন পূরণের পেছনে যে নামটি বারবার উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু। এলাকাবাসীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনিই উদ্যোগ নেন গণবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে কলেজ শাখা সংযুক্ত করার। ইউনিয়নের মাটি ও মানুষের সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তিনি থেমে যাননি। এলাকার মানুষের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

ঘড়ির কাঁটা তখন দুপুর ১২টা ছুঁইছুঁই। আকাশ ছিল ঘন মেঘে ঢাকা, মাঝে মাঝে ভেসে আসছিল নরম হাওয়ার পরশ। পরিবেশটা ছিল উৎসবের, কিন্তু আবহাওয়ার ছায়ায় এক ধরনের প্রতীক্ষার আবহও যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল। তবু শতশত মানুষ জড়ো হয়েছেন গণবাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। কারণ আজকের দিনটা সাধারণ কোনো দিন নয়। মাইকে ঘোষণা শোনা যাচ্ছে, ‘আজ আমাদের স্বপ্নের কলেজ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে!’ চারদিকে উচ্ছ্বাস, চোখে আনন্দের ঝিলিক। কেউ বলছেন, এতদিন পর সন্তানের ভবিষ্যতের একটা দিশা মিলল। কেউ বলছেন, কষ্ট করে আর দূরের কলেজে পাঠাতে হবে না। এই দিনটির জন্য ভোলাব ইউনিয়নের মানুষ বহু বছর ধরে অপেক্ষা করে আসছিল।