চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর, বিশিষ্ট আয়কর আইনজীবী ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোঃ রুহুল আমিন বলেছেন, আমরা ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র চাই, আমাদের দল কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, কোনো দলকেও আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না, আমরা মিলেমিশে জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। গতকাল শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় দর্শনা প্রেসক্লাবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কোনো দলের নয়, তারা জাতির বিবেক। সাংবাদিকদের উচিত সত্য ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করা। সাংবাদিকতা একটি পবিত্র পেশা এতে পক্ষপাতিত্বের কোনো স্থান নেই। সত্য প্রকাশের মধ্য দিয়েই জাতি জাগ্রত হয়, সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে রুহুল আমিন বলেন, ৫ই আগস্ট গণঅভুত্থানের পর আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে যারা দলবাজি, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল, তাদের অনেকেই আজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, সরকারে উচ্চপদস্থ আমলা, বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক দুর্নীতিগ্রস্থ সবাই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহু কর্মকর্তা আজ অন্যায়
অভিযোগে ভুক্তভোগী। ১৫ জন জেনারেলসহ অসংখ্য সেনা কর্মকর্তা আদালতের খুন-গুমও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের অভিযোগে কারাভোগ করছেন। এটি জাতির জন্য গভীর বেদনার বিষয়।
রুহুল আমিন বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে জনগণ অন্যায়ের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, সেটি বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। জনগণ ইনসাফ ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার শাসন চায়, জামায়াতে ইসলামী সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ভিন্ন মত দমন নয়, মতের স্বাধীনতা থাকবে। ধর্ম, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু রাষ্ট্র গঠনই আমাদের উদ্দেশ্য। এসময় তিনি জামায়াতের পক্ষ থেকে জেলায় পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড এবং মানুষকে সাবলম্বী করার বিবরণ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। একটি উন্নত দেশ গঠনের জন্য, সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য, বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বপরি জেলাকে সুন্দর করে গড়ার জন্য তাদের সমর্থন চান। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার নায়েবে আমীর ও সাবেক দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল কাদের, দর্শনা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন, দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল। আরো উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের দর্শনা থানা সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমান টুকু, পৌর আমীর ও সাবেক কমিশনার সাহিকুল আলম অপু, দর্শনা থানা শাখার সহকারী সেক্রেটারি সাবেক ছাত্রনেতা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ প্রমুখ।