আফাজ্জল হোসেন, বাগমারা (রাজশাহী) থেকে : দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পেয়ারা, আমড়া ও নানা ধরনের আচার তৈরি করে বিক্রি করেন মুকবুল হোসেন (৫৫)। সকাল হলেই নিজের হাতে কাটা টুকরা টুকরা পিয়ারা, আমরা ও নানা ধরনের আচার বাই সাইকেলে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন তিনি। গ্রামের অলিগলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছোট ছোট বাজারে ঘুরে ঘুরে সাইকেলে পসরা বসিয়ে বিক্রি করেন। বিভিন্ন ধরনের মসল্লা, টক-ঝালের মাখানো পেয়ারা, আমড়া ও আচার খেতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে নানা বয়সের মানুষ। বিশেষ করে তার পণ্যের ভক্ত শিশু ও অর্ধ বয়সীরা। সাইকেলের সামনে হ্যান্ড মাইকে নিজের কন্ঠে রেকডিং বাজে ‘যিনার খাবেন, তিনার আসেন। দুই হাত দিয়ে ঢুলের মত প্লাষ্টিকের পাত্র দুলিয়ে স্বাদের মাখানো, মজাদার খাবার মুকবুলের এমন ডাকে ছুটে আসেন টক-ঝাল খাবারপ্রেমিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের নন্দনপুর-চিকাবাড়ি গ্রামের মুকবুল হোসেন আজ থেকে ২৫ বছর আগে অভাবের তাড়নায় একই ইউনিয়নের সাঁইপাড়া গ্রাম থেকে চিকাবাড়িতে ঘরজামাই থাকে। সাইকেলে মালামাল বসিয়ে সারা দিন টক-ঝালের মাখানো পেয়ারা, আমড়া ও আচার ঘুরে বিক্রি করেন মুকবুল। একটু বয়সী হবার কারণে সবাই তাকে বুড়ার বেটা বলে চিনে। মুকবুল হোসেন প্রায় ২০ বছর আগে এলাকাতেই টক-ঝালে মাখানো পেয়ারা, আমড়া ও আচার বিক্রি শুরু করেন। অভাবের সংসার দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক মুকবুল হোসেন। তবে সারা বছর তার বানানো পণ্য বিক্রি করে তার ছোট সংসার ভালোই চলে।

মুকবুল হোসেন বলেন, যখন টক জাতীয় ফল পাই তা দিয়েই আচার বানাই। এছাড়া সারা বছর আমি পেয়ারা ও আমড়া বাজার থেকে কিনে বাসায় ভোর রাত হতে কেটে পাত্রে রাখি। পরে সকালে ঘরোয়া পরিবেশের তৈরি মসল্লা নিয়ে সাইকেলে করে বেড়িয়ে পড়ি। রাস্তার ধুলোবালি ও ময়লা, পোকা, মাছি না পড়ে সেজন্য ঢাকনা দিয়ে মালামাল ঢেকে রাখি। প্রতিদিন ৭শ টাকা থেকে ৮শ টাকা বিক্রি হয়। বৃষ্টি-বাদল ছাড়া এতেই স্বাচ্ছন্দে চলে তার সংসার বলে জানান মুকবুল।