এম এ আর মশিউর, যশোর : বাংলার আকাশ যখন আগুনের মত জ্বলছে, মাঠের পর মাঠ যখন খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই বাংলার মাটিতে আসে এক অনন্য ফল, যার নাম তাল। এই গরমে ক্লান্ত শরীরকে প্রশান্তি দিতে ও তৃষ্ণা মেটাতে যে ফলের জুড়ি নেই, তা হলো তালের শাঁস। গ্রামবাংলার বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের অপরিহার্য এই ফল এখন যশোর শহরের মোড়ে মোড়ে, রাস্তার ধারে, বাসস্ট্যান্ড আর কোর্টের মোড়ে বিক্রি হচ্ছে।
ঐতিহ্য আর স্বাদে ভরা তালের শাঁস বাংলার মানুষের সাথে তালের শাঁসের সম্পর্ক বহু পুরোনো। গ্রামগঞ্জের তালগাছগুলো এই সময় যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে। পাকা তালের ভিতর থেকে নরম, সাদা, ঠান্ডা শাঁস বের করা হয়ে। শীতল পানিতে ভিজিয়ে রেখে ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করা হয়। মুখে নিলেই তালের শাঁসের নরম মিষ্টি স্বাদ ও ঠা-া ভাব মুহূর্তেই ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
বিশেষ করে যশোরের পালবাড়ি, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, সিভিল কোর্ট মোড়ে, দরাটানা, রেলগেট, বেজপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় এখন তালের শাঁস বিক্রির ধুম পরেছে । পথচারী থেকে শুরু করে ভ্যানচালক, শ্রমিক, চাকরিজীবী সবাই ভিড় জমাচ্ছেন তালের শাঁসের সিরিয়ালে। যশোরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড়ের তালের শাঁস বিক্রেতা রফিক বলেন, আমিা গ্রাম থেকো তাল কিনে এনে এখানে বিক্রি করি। সকালে ভ্যানে তুলে এনে রেখে বিক্রি করি। প্রতিটি তাল ১০-১২ টাকা, আর এক চোখ ৩ টাকা করে। খুব ভালো বিক্রি হয়। এই গরমে মানুষ তালের শাঁস খেয়ে ঠান্ডা পায়, আর আমাদেরও ভালো আয় হয়।