দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর এলাকার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে গোমতী নদীতে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে নদী ও নদী তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ। চারপাশের দুর্গন্ধময় বাতাসে দমবন্ধের উপক্রম স্থানীয়দের।
জানা যায়, ১৯৯৮ সালে দাউদকান্দি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা। প্রায় ১৩ দশমিক ১৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় ৩৩ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস। পৌর এলাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ টন বর্জ্য তৈরি হয়। গত দুই দশকে পৌরসভার উন্নয়নে শতকোটি টাকা ব্যয় হলেও বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। শুধু গোমতী নদী নয়, ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাইওয়ে রোডের পূর্ব পাশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ঘেঁষে ময়লার স্তূপ করে রেখেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, গোমতী নদীর তীরে বর্জ্যের স্তুপ। দাউদকান্দি চেঙ্গাকান্দি ঘাট সংলগ্ন ব্লকে গোমতী নদী তীর ঘেঁষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা ফেলছেন। পৌরশহরের সকল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এই নদীতে। এদিকে কাক, মুরগি, কুকুর সেগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করছে। এছাড়াও পলিথিন, চিপস, বিস্কুটের খোসা ভাসছে নদীর পানিতে। হাসপাতালে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, কাচের বোতলসহ নানা ধরনের ক্লিনিক্যাল বর্জ্য দেখা গেছে সেখানে। বর্জ্য নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। খোলা স্থানে এমনভাবে বর্জ্য ফেলায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। নদীর পানি ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকাবাসী। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীও দূষিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে আওয়ামী সরকারের আমলে বর্জ্য অপসারণের নির্ধারিত কোনো জায়গার ব্যবস্থাপনা করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন সময়ে পৌরসভার উন্নয়নে কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হলেও পৌরসভা থেকে ময়লা ফেলানোর নির্ধারিত জায়গা তৈরি না করায় সাবেক মেয়রকে দায়ী করছেন পৌর বাসিন্দারা।
চেঙ্গাকান্দি ঘাটের মুদি দোকানদার শাওন বলেন, ‘আগে আমাদের এখান দিয়ে অনেক লোক যাতায়াত করতো তাই দোকান দিয়েছিলাম। বেশ কিছুদিন পৌরসভার সব ময়লা এই নদীর পাশে এনে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে এখানে ব্যবসা করাই কষ্টকর। আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নাই তাই বাধ্য হয়ে এখানে থাকছি। এই নদীর পানি আমাদের ব্যবহার করতে হয়। সেটাও এখন দূষিত হয়ে গেছে। আর এখানে ময়লা ফেলায় আমাদের খুব ক্ষতি হচ্ছে। নদীর পাশে বিভিন্ন পণ্যবাহী নৌযানের মালামাল এখানে খালাস করা হয়। এখানে প্রতিদিন শ খানিক দিনমজুর কাজ করে।
গোমতী নদী রক্ষায় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় চাকরিজীবী লোকমান হেকিম বলেন, ‘পৌরসভায় বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় সব ময়লা নদীতে ফেলা হচ্ছে।
এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীও দূষণ হচ্ছে। এর ফলে নদীতে মাছের আধিক্য কমে গেছে। এই নদীর উপকূলের লোকজন এই পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই দ্রুতই যেন গোমতী নদী বাঁচাতে পৌরসভার জন্য একটি বর্জ্য শোধনাগার তৈরি করা হয়।’
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম বলেন, আমি শুনেছি আগে নদীতে বর্জ্য ফেলা হতো,আমি গত কয়েক মাসে এখান থেকে অনেক বর্জ্য সড়িয়েছি। আর প্রত্যেক পৌরসভায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র থাকতে হয়। আমরা দ্রুতই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি ক্রয় বা অধিগ্রহণ করে পৌরসভার নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যোগ নেবো।