মাহফুজ আলম, কাপ্তাই থেকে : মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর সুস্বাদু ও ওষুধি গুণ সম্পূর্ণ খাবার। পুষ্টি ও ওষুধি গুণ থাকায় এরই মধ্যে এটি সারা দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকদের মাঝে মাশরুম চাষে বেশি আগ্রহ বাড়ছে। মাশরুম চাষে বেকার সমস্যার সমাধান ও বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাশরুম চাষে কোনো আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। চাষের জমি না থাকলেও বসত ঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। মাশরুম বীজ উৎপাদনের জন্য যেসব কাঁচামালের প্রয়োজন হয়ে থাকে যেমন- বিশুদ্ধ খড়, কাঠের গুঁড়া, টিস্যু-কাগজ, গমের ভূসি ইত্যাদি এসব জিনিস আমাদের দেশে সহজলভ্য ও সস্তা। বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ করে এরই মধ্যে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তুলেছেন কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা বড়াইছড়ি পাড়া গ্রামের অনিল মারমা নামের শিক্ষিত এক যুবক। সরেজমিন কথা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, তরুণ উদ্যোক্তা অনিল মারমা সঙ্গে। তার মা পেশায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, বাবা-মৃত সাইহ্লা প্রু (এসপি) মারমা নামে কাপ্তাইয়ে পরিচিত। পরিবারে এক বোন এক ভাইয়ের মধ্যে উদ্যোক্তা অনিল মারমা বড়। তরুণ এই উদ্যোক্তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল থেকে অনার্স মাস্টার্স অধ্যয়ন শেষ করে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (ওকালতি) ডিগ্রি ও অর্জন করে রাঙ্গামাটি জেলা আদালতে ওকালতি চর্চা করেন। করোনার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওকালতি চর্চা ছেড়ে কাপ্তাই গ্রামের বড়ইছড়িতে চলে আসে অনিল মারমা। দীর্ঘদিন চাকরি বা কোনো ব্যবসা না থাকায় হতাশায় পড়েন তিনি। পরে মাশরুম চাষ বিষয় জানতে পেরে ঢাকা মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ শেষে স্বল্প পুঁজি নিয়ে ঔষধি ও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ মাশরুম চাষ শূরু করেন। প্রাথমিকভাবে ৫০টি স্পন প্যাকেট নিয়ে ২০২০ সালে মাশরুম চাষ শূরু করে অনিল মারমা। বসত ঘরের পাশে ছোট একটি জায়গা নিয়ে মাশরুম চাষের যাত্রা শূরু হয় তার। বর্তমানে অনিল মারমা, মাশরুম চাষ করে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করছে। তিনি জানান, প্রথম স্পন প্যাকেট থেকে ২০ হতে ২৫ দিনের মধ্যে ফলন আসে। ২ কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় ২ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। সে প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ কেজি মাশরুম বিক্রি করে থাকে। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ও শুকানো মাশরুম ৮শ’ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ (তিনশ’) টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকে। সে উৎপাদিত মাশরুম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাশরুম পাঠিয়ে থাকেন বলে তিনি জানান। তার খামারে মাশরুম চাষে প্রতিদিন পাঁচজন শ্রমিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। তাদের প্রতি মাসে জনপ্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিয়ে থাকেন। ভবিষ্যতে আরো বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে অনিলের খামারে ৮শ’র অধিক মাশরুমের খড়ের স্পন প্যাকেট রয়েছে এ থেকে তিনি প্রায় ৪০০ কেজি মাশরুম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে। যার বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় আড়াই লাখ টাকা। তরুণ উদ্যোক্তা অনিল আরো বলেন, মাশরুম উৎপাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাশরুম বীজ (স্পন) উৎপাদন করেন তিনি। তার উৎপাদিত মাশরুম বীজ (স্পন) দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির প্রক্রিয়া শূরু করেছে। মাশরুম খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু সবজি এবং লাভজনক ব্যবসা। তার মাশরুম চাষ দেখে এলাকায় অনেক বেকার যুবক আগ্রহী হচ্ছে এ পেশায়। তার মাশরুম খামার দেখে অনেকে তার খামারের বীজ নিয়ে মাশরুম চাষ শূরু করেছে। অনিল বলেন, সরকারিভাবে এই খাতে যদি কৃষি ঋণ কিংবা সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে শিক্ষিত বেকার যুবকরা মাশরুম চাষ করে বেকারত্ব দূর করতে পারবে। কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী ও ঔষধিগুণে ভরপুর একটি দ্রব্যের সহজ সরল নাম মাশরুম। মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন খাবারের পাশাপাশি মাশরুম চাষ অনেক লাভজনক। মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের উপযোগী। মাশরুম চাষের জন্য কোনো উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না। বসত ঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। কাপ্তাই উপজেলায় বাণিজ্যিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে ১২টি স্থানে মাশরুম চাষ হচ্ছে। তা থেকে প্রতিমাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মাশরুম উৎপাদিত হচ্ছে।
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
মাশরুম চাষে সফল উদ্যোক্তা অনিল মারমা
মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর সুস্বাদু ও ওষুধি গুণ সম্পূর্ণ খাবার। পুষ্টি ও ওষুধি গুণ থাকায় এরই মধ্যে এটি সারা দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
Printed Edition