আল-হেলাল, (নালিতাবড়ি) শেরপুর : শেরপুরের নালিতাবড়ি উপজেলায় মাছের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। নদীতে মাছ নেই জেলেরা মাছ না থাকায় তাদের মাছ ধরার নৌকা তীরে ভিড়িয়ে বেকার সময় কাটাচ্ছে। সংসারে দেখা দিচ্ছে অভাব অনটন। পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। জেলা মৎস্য বিভাগ প্রতি বছর ঘটা করে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর নামে মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেও তা তেমন কাজে আসছে বলে মনে হয় না। নালিতাবড়ির প্রধান প্রধান নদ-নদী গুলো বর্তমানে বর্ষার পানিতে ভরপুর, উপজেলার জেলেদের সংখ্যাও কম নয়, তাদের রয়েছে প্রয়োজনীয় জাল নৌকা কিন্তু নদ-নদীতে নেই মাছ। নালিতাবাড়ি উপজেলায় মাছের চাহিদা বছরে ৮হাজার ৭৭৮.৩০ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় ৬ হাজার ৭৯০.৩০ মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকছে প্রতি ১ হাজার ৯৮৮.০৪ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ০৪০৬ মেট্রিক টন মাছের পোনা অবমুক্তির পরিকল্পনা ছিলো বলে মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে জানা যায়। এর মধ্য কত টন পোনা ছাড়া হয়েছে তা মৎস্য বিভাগই জানে অন্য কেহই বিষয়টি দেখে বলে মনে হয় না। প্রতিবছর জেলা উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে সরকারি ভাবে মুক্তজলাশয়ে মাছের পোনা ছাড়া হয় নানান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু সে মাছ যায় কোথায় তা কেউ জানেনা। মৎস্য বিভাগের খাতা কলমে ৭ হাজার হেক্টর জলাশয় দেখানো হয়। বাস্তবে এ জলাশয় খুঁজে পাওয়া যাবেনা। জলাশয় বেশী দেখিয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার জন্য জলাশয়ের পরিমান বেশি দেখানো হয় বলে মাছ চাষের সাথে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
নালিতাবাড়ির উপজেলার প্রধান নদ-নদীর মধ্যে ভোগাই, বুড়ি ভোগাই চেল্লাখালী, মহারসী, মালিঝি, কাটাখালি, কালাগাং ইছামতী প্রধান। শুস্ক মওসুমে এসব নদ-নদীতে পানি তেমন একটা না থাকলেও বর্তমানে নদীগুলোতে যথেষ্ট পনি রয়েছে। প্রতি মৌসুমে মৎস্য বিভাগ মৎস্য সপ্তাহ পালন করে। বিভিন্ন নদ-নদীও জলাশয়ে মাছের পোনা অবম্ক্তু করা হয় ঘটা করে। সরকারের লাখ লাখ টাকার পোনা ছাড়ার নামে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়। কিন্তু কি পরিমান মাছের পোনা ছাড়া হয় তা কেউ জানেনা। আসলে ছাড়া হয় নাকি খাতা কলমে দেখানো হয় এ প্রশ্ন দেখা দেয় তখনই যখন জলাশয়ে মাছের কোন দেখা পায় না জেলেরা। তবে সরকারের উদ্দেশ্য মানুষের আমিষের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরন করার। সাথে সাথে উপজেলার ৪ হাজার জেলে পরিবারে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু এ পরিকল্পনা কাদের কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়না তা কেউ কোনো সময় হিসাব নেয়না। উপজেলা মৎস্য অফিসের হিসেব মতে উপজেলায় ৯ হাজার ৯শ ১৯টি পুকুর, ১৯টি বিল, নদীও মোহনা ৪টি ও ২০টি প্লাবন ভূমি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭ হাজার হেক্টর জলাশয়ে ১লক্ষ ৩০হাজার মূল্যের মাছের পোনা ছাড়া হচ্ছে। নালিতাবাড়ি উপজেলার মাছের ঘাটতি কমাতে মৎস্য বিভাগের আন্তরিক ভাবে কাজ করতে হবে। কেবল মাত্র প্রতি বছরের মতো মওসুমে কয়েকটি জলাশয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে মাছের পোনা অবমুক্তির মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে নালিতাবাড়ীতে মাছের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না।