ছাতক সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার সীমান্ত রুট এখন ভারতীয় গরু-মহিষের নিরাপদ করিডোরে রূপ নিয়েছে। অবৈধভাবে আসা এসব পশু স্থানীয় পশুর হাটের ইজারার রশিদেই পাচ্ছে বৈধতা। ফলে আটক হলেও রশিদের জোরে আদালত থেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট সদস্যরা। প্রশাসনের উদাসীনতায় রমরমা হয়ে উঠেছে ভারতীয় গরু-মহিষের বাণিজ্য। দোয়ারাবাজার উপজেলায় নেই কোনো গরু-মহিষ উৎপাদন খামার। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কাছেও নেই এ বিষয়ে কোনো তথ্য। তারপরও সীমান্তঘেঁষা বাংলাবাজার, ভোগলা, নরসিংপুরসহ অন্তত সাতটি পশুর হাটে রাতের আঁধারে ভিড় করছে ভারতীয় গরু-মহিষ। ভোগলাবাজারে রশিদ বাণিজ্য শীর্ষে থাকলেও বর্তমানে এগিয়ে গেছে বাংলাবাজার হাট। সীমান্ত অতিক্রম করেই এসব পশু শেডে ঢুকে রশিদের মাধ্যমে দেশি পশুতে রূপান্তরিত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান মহিষ চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতা নরসিংপুরের আব্দুল আজিজ, শ্রীপুরের আহাদ আলী, নরসিংপুর বাজার ইজারাদার আব্দুল মতিন ও বালিউরার সালেহ আহমদ। তাদের হাত ধরে উপজেলাজুড়ে গড়ে উঠেছে বিশাল সিন্ডিকেট। শুধু গরু-মহিষ নয়, একই পথে আসছে মাদকসহ নানা চোরাচালানি পণ্যও। অভিযোগ আছে প্রতি মাসে বড় একটি চালান ‘আইওয়াশ’ হিসেবে বিজিবির হাতে তুলে দেয় সিন্ডিকেট। সম্প্রতি ৯০টি গরু আটক হলেও ব্যবসায়িরা দাবি করেন, সেদিন অন্তত চার হাজার গরু সীমান্ত পেরিয়েছে। চোরাকারবারিরা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাঠায়। ভোগলার মন্তাজ আলীর ছেলে সারফুল ও তার শালা পলাশ আহমদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। কলাউড়া গ্রামের ফয়েজ বিজিবির নাম ভাঙিয়ে টাকা তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া খুরশিদ আলী, রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ইমাম ও কাসেম, আনোয়ারসহ অন্তত ৬৭ জন সরাসরি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের পেছনে আছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। অভিযোগ রয়েছে প্রতি গরু-মহিষের জন্য ১ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে তোলা হয় ‘লাইনম্যান ফি’। এমনকি নিলামে তোলা মালামালও শেষ পর্যন্ত কিনে নেয় সিন্ডিকেট সদস্যরাই। সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন। চা বিক্রি কিংবা মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা আনোয়ার ও ‘নতুন আনোয়ার’ নামের দুই ব্যক্তি এখন কোটি টাকার মালিক, নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিং বলেন হাটের আশপাশে শেড গড়ে ওঠার বিষয়টি অনুসন্ধানের সঙ্গে মিল রয়েছে। বাজারগুলো সীমান্ত থেকে সদর এলাকায় স্থানান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোঃ আব্দুল কাদির জানান, বাজারের রশিদ থাকায় তাদের কিছু করার থাকে না। তবে পুলিশের নামে কেউ টাকা তুললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুনামগঞ্জ বিজিবি-২৮ ব্যাটালিয়নের সিও লে. কর্নেল জাকারিয়া কাদির বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সব সময়ই তৎপর। সীমান্ত ক্যাম্পে সদস্য সংখ্যা ও সোর্স বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি এখন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
ভারতীয় গরু-মহিষের রমরমা ব্যবসা
সুনামগঞ্জের সীমান্তে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার সীমান্ত রুট এখন ভারতীয় গরু-মহিষের নিরাপদ করিডোরে রূপ নিয়েছে
Printed Edition