মনিরামপুর (যশোর) থেকে সংবাদদাতা : ভবদহ জলাবদ্ধতার কারণে যশোরের মনিরামপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দীর্ঘ এক মাস ধরে পানিতে তলিয়ে থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান পাঠদান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে কেউ কেউ খুঁজছেন বিকল্প পথ। ভবদহ জলাবদ্ধতা এখন শুধু কৃষি নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দি হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা পাঠে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরেজমিন হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের ভুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, স্কুল চত্বরে হাঁটুপানি জমে থাকায় পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রাণেশ ম-ল ও অন্যান্য শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বাড়ির আঙিনায় বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে তাবু টানিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষাও চলছে এই অস্থায়ী তাবু শ্রেণিকক্ষে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোমর সমান পানি ভেঙে প্রতিদিন স্কুলে পৌঁছাতে হয় তাদের। স্কুলের উঠানেও হাঁটুপানি থাকায় শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ নেওয়ার কোনো উপায় নেই। শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ লাঘবে শিক্ষকরা নিজেদের টাকায় তাবু কিনে বিকল্প শ্রেণিকক্ষ তৈরি করেছেন। বিদ্যালয়ের পিটিএ সভাপতি নিত্য বিশ্বাস জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে গ্রামের লোকজন মিলে বাঁশ সংগ্রহ করে তার বাড়ির উঠানে অস্থায়ী তাবু টানানো হয়েছে। এভাবেই চলছে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম। একই অবস্থা কুমাসীমা, হাটগাছা, পাঁচকাটিয়া, মহিষদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার আরও বহু প্রতিষ্ঠানে। কারও কারও পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, আবার কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে বা বাড়িঘরের বারান্দায় অস্থায়ীভাবে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম জিল্লুর রশীদ জানান, বর্তমানে কমপক্ষে ২৫টি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার মাঠ পানিতে ডুবে আছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোতালেব বলেন, অন্তত ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।