ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার রানী বৃন্দা রানী সরকারি বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে “কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫”। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় ইসলামি শিক্ষাবোধ ও সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক প্রশ্নপত্রে অংশ নেয় ৪র্থ থেকে ১০ম শ্রেণির প্রায় ১৮০০ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মেধা ও চরিত্র গঠনের লক্ষ্য আয়োজকদের মতে, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী বাছাই নয়, বরং নৈতিকতা, চরিত্র ও ইসলামি আদর্শে অনুপ্রাণিত তরুণ প্রজন্ম তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

একজন আয়োজক বলেন, “কিশোর কণ্ঠ মেধা বৃত্তি পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইসলামি আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার মানোন্নয়ন করাও আমাদের উদ্দেশ্য।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে। সেরা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপে প্রশিক্ষণ ও পুরস্কারের সুযোগ দেয়া হবে।” পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে আসা অভিভাবকরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও জ্ঞানচর্চার আগ্রহ বাড়ায়। একজন অভিভাবক জানান, “আমার সন্তান দীর্ঘদিন ধরে কিশোর কণ্ঠ পড়ছে। এই পরীক্ষার জন্য সে মনোযোগী হয়ে পড়াশোনা করেছে, যা তার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে।” আরেকজন বলেন, “আজকের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা খুব সুন্দর ছিল। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনায় নয়, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনে উৎসাহিত করে।” অভিভাবকরা আশা প্রকাশ করেন, কিশোর কণ্ঠ যেন প্রতি বছর এমন মেধা বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করে, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবীরাও সুযোগ পায়। পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত পদপ্রার্থী ও জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুস সাত্তার।

তিনি বলেন, “কিশোর কণ্ঠ মেধা বৃত্তি পরীক্ষা তরুণ প্রজন্মের মেধা ও চরিত্র গঠনের এক অনন্য উদ্যোগ। এ ধরনের কার্যক্রম দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিমলা রানী বৃন্দা রাণী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের জেলা সেক্রেটারি মোঃ রেজাউল করিম, উপজেলা সভাপতি রহমত আলী প্রমুখ। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে “কিশোর কণ্ঠ মেধা বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫” ডিমলা উপজেলায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা মনে করেন, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে এটি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত করে জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।