বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, জামায়াত যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় তাহলে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র পরিচালনা মানে এমন এক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যেখানে জনগণের সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বয়স বা অন্য কোনো ভিত্তিতে বৈষম্য থাকে না। এর জন্য প্রয়োজন দেশের সর্বস্তরে বৈষম্যের উৎসগুলো নির্মূল করা, একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ও অন্যান্য নাগরিক সেবার উন্নয়ন ঘটানো। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী চায় দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। ইনসাফ কায়েম করতে। যেখানে মানুষ চাইলেও অধিকার পাবে, না চাইলেও অধিকার পাবে। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশের মানুষ নানান প্রতীক আর প্রতিশ্রুতি দেখেছে, এবার সময় এসেছে দাঁড়িপাল্লার বাংলাদেশ গড়ার। আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজিমুক্ত, সন্ত্রাস ও দখলবাজমুক্ত একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়তে চাই। ইসলাম ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন,আমরা উন্নয়ন চাই, তবে তা যেন ন্যায়বিচার ও সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকা রাখবে জামায়াতে ইসলামী। এ সময় তিনি দোকানদার, পথচারী ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। সাথে সাথে তিনি এলাকার উন্নয়ন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে কৈয়া বাজার, মোস্তর মোড়, আড়ংঘাটা বাজার, খুলনা সিটি পলিটেকনিক, খুলনা নেছারিয়া কামিল মাদরাসা, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতিতে কয়রা-পাইকগাছার শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষের সঙ্গে পৃথক পৃথক মতবিনিময়, লিফলেট বিতরণ ও গনসংযোগকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

দুপুরে খুলনা সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খুলনাতে কয়রা-পাইকগাছার যারা কর্মরত আছেন তাদেরকে নিয়ে কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি এস এ মুকুলের সভাপতিত্বে ও আব্দুল মান্নান এর পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খুলনা এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ প্রিন্সিপাল এস এম জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আজিজুর রহমান, আব্দুল কুদ্দুস গাজী, নাজমুল হুদা, তুহিন মন্ডল, মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ যদি আমরা ঘুষ, দূর্নীতি, চাঁদাবাজ মুক্ত না করতে পারি, তাহলে এই দেশ ব্যর্থ হবে। তাই আসুন, অপরাধ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। তিনি বলেন, দেশকে ভালো রাখতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোন বিকল্প নেই, তাই আমাদের একটি বারের জন্য হলেও ভোট দিয়ে সহযোগিতা করুন। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে দেশে ন্যায়বিচার, শান্তি এবং ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হবে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ আমরা যদি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাই, তবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করব। এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আমরা একটি সৎ, আদর্শিক ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্ব দিতে চাই।

বিকেলে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির কয়রা-পাইকগাছার বাসিন্দা আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় এডভোকেট শাহ আলম, এডভোকেট আওসাফুর রহমান, এডভোকেট জাকির হোসেন, এডভোকেট মনিরুল ইসলাম পান্না, এডভোকেট লিয়াকত হোসেন, এডভোকেট মহিবুল্লাহ, কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি এস এ মুকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কয়রা-পাইকগাছার সার্বিক উন্নয়ন এবং মানুষের সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণই আমাদের শক্তির উৎস। ইসলাম, ইনসাফ ও আমানতের ভিত্তিতে আমরা একটি আদর্শিক স্থানীয় সরকার গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষায় ইসলামি রাজনীতির বিকল্প নেই। আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের কল্যাণের জন্য মাঠে নেমেছি। তিনি আরও বলেন, দেশে ইনসাফভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন। ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনীতিই পারে সেই শূন্যতা পূরণ করতে। ইনশাআল্লাহ আমরা বিজয়ী হলে জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে নিরলসভাবে কাজ করব।

এর আগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ কৈয়া বাজার, মোস্তর মোড়, আড়ংঘাটা বাজারে গণসংযোগ করেন। এ সময় কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি এস এ মুকুল, সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান কবীর, নির্বাহী সদস্য আব্দুল আলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।