তৌফিক রুবেল, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মারুকা ইউনিয়নের কাটারাপাড়া এলাকায় সাত মাস ধরে ভেঙে পড়ে থাকা একটি কালভার্ট স্থানীয় হাজারো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গৌরীপুর টু পিপলসনগর চায়না মাটির সড়কের ওপরের এই কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙা কালভার্টটি মারুকা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটারাপাড়া এলাকায় অবস্থিত। কালভার্টটি দাউদকান্দি ও পাশের চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও কৃষক চলাচল করে। কিন্তু সাত মাস ধরে কালভাটটি ভেঙে পড়ায় তারা এখন বিকল্প ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল প্রধান বলেন, “ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করত। কিন্তু কালভাটটি ভেঙে যাওয়ার পর যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক সময় মানুষ ও ছোট গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।”পাগলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ জানান, “সাত মাস আগে একটি ট্রাক কালভাটের ওপর উঠলে সেটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে এটি আর মেরামত হয়নি। ফলে গ্রামবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে।” অন্যদিকে, স্থানীয় শিক্ষক নাজমুল আহসান বলেন, “বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। বৃষ্টির পানিতে কালভাটের আশপাশে পিচ্ছিল অবস্থা তৈরি হয়, তখন কেউ সাহস করে এ পথে চলাচল করতে পারে না।” ১৯৯৭ সালে নির্মিত এই কালভাটটি এতদিনে পুরোপুরি ভগ্নদশায় পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নাম থাকলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহিদুল ইসলাম দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই কালভাটটির সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী দ্রুত কালভার্টটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।