মাহমুদুল হাসান, সোনাগাজী (ফেনী) : ছোট ফেনী নদীর তীরবর্তী অঞ্চল সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদরবেশ ও পশ্চিম চরদরবেশ মৌজায় দুর্ঘম চরাঞ্চলে ৫শ’ একর জমিতে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের আওয়তায় বিশাল কৃষি বীজ ভা-ার। এতে করে পাল্টে যাবে অবহেলিত চরঞ্চলের চেহারা। সাধিত হবে আধুনিক কৃষি বিপ্লব। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, সরকারের গৃহীত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বীজ বর্ধন খামার স্থাপন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) এর আওয়াতায় দেশের ২৫তম বৃৃহত্তম এ বীজ উৎপাদন খামার প্রকল্প।
বিএডিসি ফেনী অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক সোনাগাজী উপজেলায় দেশের বৃহত্তম বীজ উৎপাদন খামার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে। বিগত ২৪ মে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ৪ ধারা নোটিশ জারী হয় এবং যৌথ তদন্ত ও ফিল্ডবুক তৈরির কাজও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভের পর এর অবশিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে মর্মে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, এই প্রকল্পটি নিয়ে বিএডিসি ২০১৬ সাল থেকে কাজ করছে। তারপর জেলা প্রশাসন ফেনী থেকে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দিয়ারা জরিপের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে প্রথমবার ৬২৬.৩৯ একর এবং বিএস জরিপের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে ৬০১.৬১ একর ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসন থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে অধিগ্রহণের সম্মতি চাওয়া হলে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের মতামত নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে গত মে ২০২৪ সালে সম্মতিপত্র প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং এরই আলোকে বর্তমানে অধিগ্রহণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বিএডিসি সূত্রে আরো জানাগেছে যে, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সহ অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভাবিত উন্নত জাতের মৌল শ্রেণীর ধান, আলু, ডাল-তেল বীজ থেকে ভিত্তি শ্রেণীর বীজ উৎপাদন করা হবে এবং উৎপাদিত বীজ কৃষক পর্যায়ে বিতরণের পাশাপাশি কৃষক পর্যায়ে পুনঃবর্ধনের মাধ্যমে প্রত্যায়িত শ্রেণীর বীজ উৎপাদন করা হবে যা বিএডিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত গুনগতমান মানসম্পন্ন বীজের যোগান বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে এবং এই অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে ও দেশের কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় খামারে উদ্যানতাত্ত্বিক ফসলের একটি ইউনিট হবে যেখানে বিভিন্ন উন্নতমানের ফলজ বৃক্ষের মাতৃবাগান স্থাপনের মাধ্যমে চারা/কলম উৎপাদন হবে এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করা হবে। খামারের রাস্তা/খালের পাশে প্রচুর সবজী উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। প্রকল্প এলাকার সরু/মজা খালগুলো পুনঃ খনন করে সেচের ব্যবস্থা করা হবে, প্রকল্প এলাকা ও সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর বনায়নের ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রকল্পটি হবে সর্বোচ্চ পরিবেশ বান্ধব। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রকল্প এলাকার জমিগুলো মূলত একফসলী। এখানে বৃষ্টি নির্ভর আমন ফসল উৎপন্ন হয়। তবে রবি মৌসুমে কিছু কিছু জমিতে তরমুজ, ডাল ইত্যাদি ফসল উৎপন্ন হয়। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই জমিগুলোই তিন ফসলী জমিতে রূপান্তরিত হবে এবং কৃষিতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।