রাজধানীর উত্তরায় বাসায় ফেরার পথে এক দম্পতিকে রামদা দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তাদেরকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার রাতে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৯/এ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আহতরা হলেন-মেহেবুল হাসান (৩৬) ও মোছা. ইফতি (৩০)। আটককৃতরা হলেন- শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার বেষ্টমীচর গ্রামের আল আমিনের ছেলে মোবারক মিয়া (২২) ও গাজীপুরের টঙ্গীর বাজার বস্তির কৃষ্ণ রায়ের ছেলে রবি রায় (২১)।

এদিকে এ ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নাসরিন আকতার ইপ্তি নিজে বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। আসামীরা হলেন-মোবারক হোসেন (২৫), রবি রায় (২২), আলফাজ, সাইফ, মধু, সজিব ও শিশির। এর মধ্যে মোবারক ও রবি রায়কে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামীপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী মেহেবুল হাসান ও তার স্ত্রী ইফতি মোটরসাইকেলে বাসায় যাচ্ছিলেন। ওই সময় তিনজন দুটি মোটরসাইকেলে এসে তাদেরকে উত্যক্ত করছিল। এক পর্যায়ে একটি মোড়ে এসে মোটরসাইকেলটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। তখন হাসান ও রিকশাওয়ালার সঙ্গে তাদের বাকবিত-া হয়। ওই তিনজনের কারো কাছ থেকে খবর পেয়ে আরো দুজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসে। তারা এসেই স্বামী-স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। ওসি হাফিজ আরও বলেন, দুই মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনের মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটকের সময় তাঁদের শরীরে রক্ত দেখা যায়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা ও জলপাই রঙের শার্ট পরিহিত দুই যুবক একজন পুরুষ ও তার সঙ্গে থাকা নারীকে রামদা দিয়ে কোপাচ্ছে। এ সময় জীবন বাঁচাতে ওই নারীকে হাত জোড় করে সন্ত্রাসীদের কাছে মাফ চাইতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।