সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই একটি আইনি সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। এজন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার, কার্যকর আইন, এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘সমষ্টির’ আয়োজনে ও ইউনেস্কো গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের (জিএমডিএফ) সহায়তায় আয়োজিত সংলাপে এসব কথা বলেন তারা। সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাংবাদিকদের জন্য একটি কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক আইনি সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদের সঞ্চালনায় সংলাপে অংশ নেন বিএফইউজের ভারপ্রাপÍ সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট-এর সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশা, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের সদস্যসচিব ইলিয়াস হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপপরিচালক নিঘাত সীমা, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর পরিচালক (লিগ্যাল) মো. বরকত আলী, আইন সেবার অ্যাডভোকেট সুজয় চৌধুরী প্রমুখ। হেল্প ডেস্ক গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক ও চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুজ্জামান।

সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ তৈরি এখন সময়ের দাবি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমননীতি চালিয়েছে, কালো আইন তৈরি করে হয়রানি করেছে। অথচ তাদের সুরক্ষায় কোনো কাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৩২টি আইন ব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানি চলছে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে ৬৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, কিন্তু অধিকাংশ হত্যাকা-েরই বিচার হয়নি। এমনকি সাগর-রুনি হত্যার বিচারও আজও ঝুলে আছে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা এখন রাজনীতি, মালিকপক্ষ, প্রশাসন ও কালো টাকার প্রভাবে চাপের মুখে পড়ছেন। অথচ তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যকর কোনো আইনি সহায়তা কাঠামো নেই।

সংলাপে বক্তারা বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার রক্ষায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে আমরা দল-মত-নির্বিশেষে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

আইন সহায়তাকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, সাংবাদিকদের জন্য আইনি সহায়তা, পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে এই হেল্প ডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং আমরা এ উদ্যোগে অংশীদার হতে চাই।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রস্তাবিত হেল্প ডেস্কটি সাংবাদিক সংগঠন ও আইন সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে। যেসব সাংবাদিক আইনি সহায়তা চান, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট আইন সহায়তা সংস্থার কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে, সাংবাদিকদের বিভিন্ন জেলা বা অঞ্চলের আইনি সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্প শেষে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে এই হেল্প ডেস্ক মডেলটি টেকসইভাবে পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ, সহায়ক এবং অধিকতর কার্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে সাংবাদিকরা প্রায়ই মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, ভূমি দখল কিংবা রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়ে রিপোর্ট করার কারণে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হন। এই প্রেক্ষাপটে একটি দ্রুত, সংবেদনশীল ও কার্যকর আইনি সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার জন্য হেল্প ডেস্ক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক সংগঠন ও আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শীঘ্রই এটিকে কার্যকর করা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।