স্টাফ রিপোর্টার: উচ্চ আদালতের রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এর আগে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে সমাবেশ করেন নিয়োগ বাতিল হওয়া প্রার্থীরা। পরে তারা এক মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে চলে আসেন। এসময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের বাধা ডিঙিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। তাৎক্ষণিক তারা হাইকোর্টে এর প্রতিবাদ জানান।
জানা যায়, সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা অনুসরণ করার অভিযোগে উত্তীর্ণদের ফলাফল প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিয়োগবঞ্চিত ৩০ প্রার্থী হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৯ নবেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন। আদালত তার আদেশে এ নিয়োগের কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। এছাড়া রুলে ৩১ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ বিষয়ে ১১ নবেম্বরের নির্দেশনাসংবলিত স্মারক কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। সে রুলের শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।
এদিকে মহার্ঘ ভাতা দেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করেছে বাংলাদেশ আন্তবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সমাবেশ শেষে স্মারকলিপি নিয়ে একটি মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ১টার পর মিছিলটি শাহবাগ থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় শাহবাগ মোড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ছোড়ে পুলিশ। এ ঘটনার পর শাহবাগের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে দেখা গেছে। এদিন দুপুরে ২টা ৪০ মিনিটে সরেজমিন দেখা যায়, মিন্টু রোড সংলগ্ন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনমুখী সড়কের দুই পাশে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে পুলিশ। এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানান, বিক্ষোভকারীরা জুমার নামাজের আগে দাঁড়িয়েছিল। তারা তাদের স্মারকলিপি দিয়ে চলে গেছেন। এখন আর কোনও ঝামেলা নেই। এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সমাবেশের ঘোষণা দেন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া।
ফেডারেশনের ৭ দফা দাবি:
১। পে-কমিশন গঠন করে বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল ঘোষণার মাধ্যমে বেতন বৈষম্য নিরসনসহ বেতন স্কেলের পার্থক্য সমহারে নির্ধারণ ও গ্রেড সংখ্যা কমাতে হবে। পে-কমিশনে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারী প্রতিনিধি রাখতে হবে। অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য ন্যূনতম ৬ হাজার টাকা মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে।
২। যেসব কর্মচারী নিজ গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে তাদের বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি নিয়মিত করতে হবে।
৩। বৈষম্যহীন এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধি এবং আপগ্রেডেশন বা পদোন্নতি নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদোন্নতি নীতিমালা পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ সুবিধাপ্রাপ্ত অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্লক পোস্ট নিয়মিত করণসহ শতভাগ পদোন্নতি দিতে হবে।
৪। সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সর্বোচ্চ বয়স ৬৫ বছর করতে হবে। সব পাবলিক, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ এবং কর্মচারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ব-স্ব বেসিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের কমিটিতে রাখতে হবে।
৫। বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে সব ভাতাদি পুনর্র্নিধারণ ও ১১-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের রেশন ব্যবস্থা প্রবর্তন অথবা ন্যায্য মূল্যে সরকারিভাবে পণ্য সরবরাহ করতে হবে।
৬। সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের গ্রাচুইটির পরিবর্তে পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচুইটি বা আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের জায়গায় ১০০ শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৭। সরকারের অনুমোদনক্রমে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পেনশন এবং গ্রাচুইটির ওপর ভিত্তি করে ৪ শতাংশ গৃহনির্মাণ ঋণ গ্রহণের সুবিধা রয়েছে। সরকার ঘোষিত নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী লোন সুবিধা সাধারণ কর্মচারীগণ ভোগ করতে পারে না। সেই নীতিমালা সংশোধন করতে হবে।