ইবরাহীম খলিল : কোন এক ব্যক্তির নামের হাজারটা বই বের করতে হবে, সেটা যে করেই হউক। মানসম্মত হউক আর না হউক। সেই বই বিক্রিতেও শীর্ষে থাকা চাই। সেটা জোরপূর্বক হলেও। নানাজন, প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করে হলেও। সেই অশুভ প্রতিযোগিতা থেকে বের হয়ে এসেছে বাংলা একাডেমির বইমেলা। এবছর অর্থাৎ ২০২৫ইং সালের বই মেলায় নেই কোন পক্ষের বাড়াবাড়ি। নেই কারো হম্বিতম্বি। একটি দলের পক্ষের চেনা মুখগুলো; যারা কেবল ক্যামেরার সামনে ঘুরাঘুরি করতো। তারা এবার সিনে নেই। এক অন্যরকম স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে চলছে এবারের বইমেলা। বলা যায়, নিজ স্বকীয়তায় ফিরলো একুশের বই মেলা। একজন মানুষকে নিয়ে এতোসব বাড়াবাড়ির সংস্কৃতি থেকে বের হতে পেরেছে স্বৈরাচার হাসিনার পলায়ণের পর। অথচ বিগত ১৬টা বছর একটি পক্ষের বাড়াবাড়িতে অতীষ্ঠ ছিলেন লেখক পাঠক।

১লা ফেব্রুয়ারি নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের উদ্বোধনের পর গত ৬ দিনে ধীরে ধীরে জমে উঠেছে একুশের বইমেলা। এই কয়দিনে মেলায় লেখক-পাঠকদের উপস্থিতি বেড়েছে দ্রুত গতিতে। প্রায় প্রতিদিন মেলায় আসছে নতুন পুরাতন বই। উপন্যাস, কবিতা, ইতিহাস, রাজনীতি, গবেষণামূলক বই। এসেছে আত্মজীবনীমূলক বইও। বই মেলার বিভিন্নস্থানে দল বেঁধে অনেকেই আড্ডায় মেতেছেন। গল্প-গানে আড্ডায় তারা আনন্দময় সময় কাটান অনেকে। বইমেলায় লেখক পাঠকদের মিলনমেলাও জমে উঠেছে এই কয়েকদিন। অনেক পাঠক পছন্দের লেখকের বই খুঁজে অটোগ্রাফও নিচ্ছেন।

লেখকরা বলেন, বইমেলা যেদিন শেষ হয়, সেদিন থেকে আমরা অপেক্ষা করি, পরের বছরের বইমেলার জন্য। আবার আড্ডা হবে, গল্প হবে, সবার সঙ্গে দেখা হবে। মেলায় আসা মানুষের মনে থাকে অনেক রং। কেউ খোঁজেন সাইন্স ফিকশান, আবার কেউ খোঁজেন ভ্রমণ বা রোমাঞ্চকর বই। পুরনো লেখকের বই কেউ কিনে নেন গো গ্রাসে। বাচ্চারা এসে খোঁজেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, কেউ বা ভূতের গল্প।

এবছর বাংলা একাডেমিতে নতুন স্টল নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বুধবার পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের ওপর বই এসেছে ২৬টি। এই কয়দিনে বিক্রির দৌড় একটু কম হলেও দিন গড়ানোর সাথে সাথে বিক্রি বাড়বে বলে জানালেন বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিরা। নারী বিক্রয়কর্মী লিলিমা আক্তার বললেন, বিক্রি তেমন শুরু হয়নি। তবে তাঁদের বইয়ের নির্দিষ্ট পাঠক আছেন। এসে খুঁজে কিনে নিয়ে চলে যান।

একইভাবে আরও কয়েকটি স্টলে খোঁজ নিয়ে জানা গেল কিছু কিছু স্টলে পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে আইসিএস প্রকাশনীর স্টলে ব্যাপক মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। স্টলের পাশে কোরআন শরীফের ডামি রাখা আছে সেখানে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে ছবি তুলতে দেখা গেছে।

এদিকে আজ শুক্রবার রয়েছে শিশু প্রহর। শিশু প্রহরের পরই মূলত জমে উঠে একুশের বইমেলা। শিশুদের সাথে থাকেন অবিভাবকরা। সেইসাথে ছুটির দিন। এই দুইয়ে মিলে সারাদিন মুখর থাকবে বইমেলার প্রাঙ্গণ। অংশীজনরা বলছেন, আজ একাডেমি প্রাঙ্গণে নামবে নানা মানুষের ঢল।

বই কেনা ও বই পড়া সবচেয়ে বড় সংস্কৃতি। বাঙালিকে আগ্রহভরে বই পড়তে শিখিয়েছে এই বইমেলা। বই কেনাবেচার পাশাপাশি একাডেমির মূলচত্বরে চলছে মাসব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।