মার্চ ফর গাজা কর্মসূচি ঘিরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী অভিমুখে মানুষের ঢল নেমেছে। চারদিক থেকে হাজার হাজার মানুষ আসছে। আগতদের প্রয়োজনীয় সব সেবা নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। গতকাল শনিবার সবার সহযোগিতায় রাখা হয়েছে মেডিকেল ক্যাম্প, পানি ও শরবত বিতরণের গাড়িসহ আরও অনেক কিছু।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা ও টিএসসি এলাকার মূল গেটে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো পানি ও শরবত বিতরণ করছে। বাংলাদেশ মেডিকেল কমিউনিটি, এনডিএফের চিকিৎসকরা মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে। কেউ দিচ্ছে ফিলিস্তিনের পতাকা। এছাড়া রাজধানীর মোড়ে মোড়ে কাভার্ডভ্যানে করে পানি, শরবত নিয়ে মিছিল নিয়ে আসা মানুষের মধ্যে বিতরণ করতে দেখা গেছে। বিভিন্নস্থান থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো স্বপ্রণোদিত হয়ে বিনামূল্যে এসব বিতরণ করেন।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে দেখা যায় যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের সব সড়ক কানায় কানায় ভরে গেছে। যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এছাড়া আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা রাস্তায় মানুষের চলাচল ও যানজট সৃষ্টি না হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। তারা জানান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে তাদের স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছে। তীব্র গরমের মধ্যে সমাবেশে আসা লোকজনকে স্বস্তি দিতে বিনামূল্যে পানি ও শরবত বিতরণ করছে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা। সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশমুখের পাশেই ট্রাকে করে পানি ও শরবত বিলানো হচ্ছে। মাইকে করে সবাইকে শরবত পান করার জন্য ডাকা হচ্ছে। তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই শরবত পান করছেন।

সমাবেশে আসা মিজান আহমেদ নামে একজন দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে আমরা এখানে এসেছি। তবে যেহেতু কড়া রোদ পড়ছে, তৃষ্ণাও পাচ্ছে। তাই বিনামূল্যের এই শরবত খেলাম। যারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ।

লিটন মাহমুদ নামে আরেকজন দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, গরম যেহেতু পড়েছে, বারবারই পানির তৃষ্ণা পায়। কিন্তু এক বোতল পানির দাম ২০ টাকা, এক গ্লাস শরবতের দাম ১০-২০ টাকা। অল্প অল্প করে হলেও পানির জন্য অনেক টাকাই খরচ হয়ে যেত। সেখানে বিনামূল্যে পানি-শরবত আমাদের মতো সমাবেশে আগতদের স্বস্তি দিচ্ছে।

ট্রাকে করে পানি ও শরবত বিতরণে আগত এক কর্মী বলেন, সমাবেশে আগত মানুষদের একটু স্বস্তি দিতেই এ আয়োজন। তাছাড়া আমরা চাই সবাই ইসরাইলী পণ্য বয়কট করুক।