ইবরাহীম খলিল : পবিত্র রমযানের আগেই আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বৈষম্যবিরোধী তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল। তবে ঠিক কোন দিন প্রকাশ করতে যাচ্ছে তা এখনো চমক হিসেবেই রাখা হচ্ছে। একই সাথে নতুন রাজনৈতিক দলের নাম কি হবে তাও চমক হিসেবেই রাখা হচ্ছে। তবে দলের নামের সাথে শক্তি শব্দটা যে থাকছে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার হটানোর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র-জনতা রাজনৈতিকদল গঠন করছে সেটা শোনা যাচ্ছে বেশ কিছু দিন ধরেই। অবশ্য ছাত্রদের রাজনীতি নিয়ে নানা কথা থাকলেও ছাত্ররা যে এখন আর ছাত্র নেই তা নিয়ে কথা হচ্ছে না। ছাত্র এখন তারুণ্যে রূপ নিয়েছে তা নিয়ে আলোচনা নাই। তবে নতুন রাজনীতি যে আসছে তা চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সব মহলে এখন ‘টপ অব দ্য ইস্যু’।

সমন্বয়কদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নগর-মহানগর-জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কমিটি দেওয়া শেষ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে। তারা জানিয়েছেন, সিনিয়র নেতারা এখন কমিটিগুলো শেষ বারের মতো পর্যালোচনা করছেন। দেখছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া নেতারা বা অংশীজনেরা কেউ বঞ্চিত হচ্ছে কি-না। তাদের মধ্যে কেউ বাদ পড়লো কি-না। আবার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেনি এমন কেউ অনুপ্রবেশ করলো কি-না। যারা বাদ পড়েছেন তাদের কিভাবে মূল্যায়ন করা যায় তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কমিটি গঠন ও মূল্যায়নের কাজ শেষ করা হবে বলে জানা গেছে।

সমন্বয়করা এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, আমাদের রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়াগত কাজ শেষ পর্যায়ে। আমরা রমযানের আগেই আমাদের অস্তিত্ব জানান দিতে চাই। আত্মপ্রকাশ করতে চাই। একথাই এখন নিশ্চিত করে বলা চাই। তবে ঠিক কবে আমরা মাঠে আসছি তা এখনই জানাবো না। দুই একদিন আগে আমরা জানিয়ে দিব। আর নামের ব্যাপারটি নিয়ে শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। তবে রাজনৈতিক দলের নাম বৈষম্য বিরোধী হচ্ছে না। একথা নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় একজন সমন্বয়ক। তিনি একটি মহানগর ও ১০ টি জেলার কমিটি প্রদানের দায়িত্বে রয়েছেন।

ওয়াহেদ নামের একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক গতকাল সন্ধ্যায় দৈনিক সংগ্রামের সাথে আলাপকালে জানান, রমযান মাস আসার আগেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিতে চাই। খুব শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের কমিটি দেওয়া শেষ। এখনো যারা বাদ পড়ছেন তাদের কিভাবে মূল্যায়ন করা যায় সে ব্যাপারে কাজ চলছে। তাদের ভূমিকাকে খাটো করে দেখতে চাই না। নামের ব্যাপারে জানতে চাইলে একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জানান, নাম নিয়ে শেষ পর্যায়ের আলোচনা চলছে। এর মধ্যে কয়েকটি নামকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে এটা নিশ্চিত যে দলের নামের সাথে শক্তি শব্দটি থাকবে।

সমন্বয়করা বলছেন, বৈষম্য বিরোধী স্লোগান দিয়ে যে ছাত্ররা দেশবাসীর আস্থা অর্জন করতে পেরেছিল তারা এখন তরুণ। তাদের দ্বারা একটি রাজনৈতিক দল গঠন হচ্ছে তাতে চমক আর ভিন্নতা থাকাটাই স্বাভাবিক। একইকারণে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই গড়া হচ্ছে এই দল।

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়কের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান রাজনীতির গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে কাঠামো গত ভিন্নতা নিয়ে আসছে তারুণ্যনির্ভর এই রাজনৈতিক দল। নেতৃত্ব পর্যায়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অবদান রাখা মানুষগুলোকে সামনে রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিপ্লবী চেতনাকে ধারণ করতে সক্ষম এবং বৈষম্যবিরোধী দেশ গড়ার মনোভাব পোষণকারীরা এই দলের অংশীজন হিসেবে কাজ করছেন।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে তরুণদের রাজনৈতিক দল গঠনের আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই সামনে আসবে তরুণদের চিন্তার ফসল এবং রাজনৈতিক অঙ্গিকারসমৃদ্ধ ইশতেহার। জাতি জানতে পারবে তরুণেরা কেমন রাজনীতি আর কেমন দেশ উপহার দিতে চায় জাতিকে।

প্রসঙ্গত বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে জনগণের সমর্থন নিয়ে ছাত্র-জনতা দেশ থেকে স্বৈরাচার বিতাড়ন করেছে। এখন তারা একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গঠনের নেতৃত্ব দিতে চান। এক্ষেত্রে অংশীজনরাও তাদের হাতে দেশ গড়ার দায়িত্ব দিতে চান। দেশের শীর্ষ একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান স্পষ্টতই বলছেন বৈষম্যমুক্ত দেশ গঠনে তরুণদের হাতে দেশ গড়ার দায়িত্ব দিতে চান। এতে বোঝা যায় তরুণেরা দেশ গড়ার দায়িত্ব নিক সে ব্যাপারে তিনি উৎসাহিত করছেন।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসও চান তরুণের রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরি করুন। তারা দেশ গড়ায় অংশ নিক। একথা স্পষ্ট হয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। তিনি ছাত্রদের দল গঠন নিয়ে বলেন, ‘একটি সম্ভাবনা হলো, ছাত্ররা নিজেরাই একটি দল গঠন করবে। শুরুতে যখন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়, তখন আমি তিনজন ছাত্রকে আমার উপদেষ্টা পরিষদে নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, যদি তারা দেশকে “জীবন” দিতে পারে, তাহলে তারা উপদেষ্টা পরিষদে বসতে পারে এবং জীবন দেয়ার জন্য কী করছে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা ভালো কাজ করছে।