স্টাফ রিপোর্টার : সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দমনে সারাদেশব্যাপী পরিচালিত অপারেশন ডেভিল হান্টে আরও ১৫৬৬ জনকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসময় অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ১ হাজার ৯৯ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, অপারেশন ডেভিল হান্ট ও অন্যান্য অপরাধে বুধবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৬৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেফতার হয়েছে ৫৬৬ জন।
পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, আসামী গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার করেছেন অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ২টি বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন ২টি, গুলী ৫ রাউন্ড, ছুরি ১টি, রামদা ১টি।
শনিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বৈঠকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুর এবং গাজীপুরে সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ভাঙচুর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনার সময় সরকার এই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রীসহ ১৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তার স্ত্রী মোছা. হোসনে আরা বেগমসহ ১৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের পৃথক আবেদনের শুনানি করে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়া অন্যরা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কে এম হোসেন আলী, তার স্ত্রী বেগম গোলেনুর, তার মেয়ে সিরাজগঞ্জ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনা হেনা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুস সালাম, সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের স্ত্রী শেনীন রুবাইয়াত, তাদের ছেলে জুহায়ের শারার ইসলাম ও শাহদান ইসলাম, শিবলীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, মো. মাহবুবুল আলম, মো. সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ রেজাউল করিম, শেখ মাহবুব উর রহমান, মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, এসকে মো. লৎফুল কবির ও মোহা. রশীদুল আলম।
দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, দুদকের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের স্ত্রী-সন্তানসহ ১১ জনের বিষয়ে; দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামানসহ দুজনের এবং উপপরিচালক আবু সাইদ সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন আলীসহ চারজনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে আদালত সব আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
স্ত্রীসহ নুরুজ্জামানের আবেদনে বলা হয়, আসামীদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি নুরুজ্জামান, তার স্ত্রী ও ছেলে রাকিবুজ্জামানের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। তার আগেই ৩০ জানুয়ারি রংপুর নগরের একটি বাসা থেকে নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের স্ত্রী-সন্তানসহ ১১ জনের আবেদনে বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। তারা দেশত্যাগ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক। বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।